রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত পরিত্যাক্ত কাছারিবাড়ির সংস্কার কাজ শুরু - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত পরিত্যাক্ত কাছারিবাড়ির সংস্কার কাজ শুরু

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৩, ২০২৩
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত পরিত্যাক্ত কাছারিবাড়ির সংস্কার কাজ শুরু

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজরিত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের পরিত্যাক্ত কাছারিবাড়ির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বুধবার ( ৩ মে) সকাল থেকে সংস্কার কাজ শুরু হয়। প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ করছেন খুলনার মল্লিক কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত পরিত্যাক্ত কাছারিবাড়ির সংস্কার কাজ শুরু

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত পরিত্যাক্ত কাছারিবাড়ির সংস্কার কাজ শুরু

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত পরিত্যাক্ত কাছারিবাড়ির সংস্কার কাজ শুরু

চলতি অর্থবছরে কাছারিবাড়ির এক – চতুরংশের সংস্কার করা হবে। আগামী দুই – তিন অর্থবছরের কাছারিবাড়ির বাকী অংশ সংস্কার করা হবে। সংস্কার শেষে কাছারিবাড়িটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং সেখানে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের উপর ডিসপ্লে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

জানা গেছে, ১৮৯১ সালে পিতার আদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোলকাতা থেকে জমিদারি তদারকির কাজে শিলাইদহে এসেছিলেন। সেখানে প্রায় ৫ একর জমির ওপর কাছারিবাড়ি নির্মাণ করে তিনি খাজনা আদায়ের কাজ করতেন। জমিদারির ফাঁকে তিনি শিলাইদহে বসে অসংখ্য গান, কবিতা বা নাটক লিখতেন। এই অঞ্চলে ঘটিয়েছিলের কৃষির বিপ্লব। গড়ে তুলেছিলেন সমবায় সমিতি, সমবায় ব্যাংক। কিন্তু রক্ষানুবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে অযত্নে – অবহেলায় প্রায় ৬০ – ৭০ বছর পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে কাছারিবাড়িটি। ইতিমধ্যে চুরি হয়ে গেছে কাছারি বাড়ির জানালা দরজাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। খসে পড়েছে ছাদ ও দেওয়ালের পলেস্তারা। দোতলা বিশিষ্ট ভবনের এককক্ষের ছাদ ভেঙে পড়েছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অপূর্ব কারুকাজ সমৃদ্ধ দোতলা কাচারী বাড়িটি আগাছা আর বন্য লতা-গুল্মে ছেয়ে গেছে। দরজা – জানালা নেই। খসে পড়েছে পলেস্তারা। ভেঙে পড়েছে এক কক্ষের ছাদ। বাড়ির দেওয়াল ও দোতলার মেঝেকে ঘুটে শুকানোর (কাঁচা গোবর) আদর্শ স্থান হিসেবে পরিনিত হয়ে আছে। কয়েকজন শ্রমিক সংস্কারের কাজ করছেন।

এসময় কথা শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বর) শরিফুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, তাঁর দাদা ও নানা কাছারিবাড়িরতে সাথে ঘোড়াই চরে খাজনা আদায়ের কাজ করছেন। কালের স্বাক্ষী এই বাড়িটি প্রায় ৬০ -৭০ বছর পরিত্যাক্ত হয়ে আছে। অনেক দর্শনার্থী এসে ফিরে যান। আরো আগেই সংস্কার করার দরকার ছিল।

কাজের ঠিকাদার হুমায়ন আহমেদ বলেন, প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনি সংস্কার কাজ শুরু করেছেন। শুধুমাত্র ভবনের পরিত্যাক্ত ইট, কাঠ, লোহা গুলো পরিবর্তন করবেন তিনি। চলতি বছরের জুনের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করার কথা রয়েছে তাঁর।

শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান আল আমিন বলেন, ২০১৮ সালে কাছারিবাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমবারের মতো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। তবে পুরো ভবন নয়, শুধুমাত্র পরিত্যাক্ত ইট, কাঠ,লোহা গুলোর সংস্কার করা হবে। চলতি অর্থবছরে বাড়ির চার ভাগের এক সংস্কার করা হবে। বরাদ্দ পেলে আগামী দুই – তিন অর্থবছরের পুরো বাড়ির সংস্কার কাজ করা হবে। সংস্কার শেষে দর্শনার্থীদের জন্য কাছারিবাড়িটি উন্মুক্ত করা হবে এবং সেখানে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের ওপর ডিসপ্লে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন: