ভেড়ামারায় রেলওয়ের পুকুর ভরাটের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ভেড়ামারায় রেলওয়ের পুকুর ভরাটের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৮, ২০২৩
ভেড়ামারায় রেলওয়ের পুকুর ভরাটের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি দিয়ে রাতের আধারে রেলওয়ের পুকুর ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে ভেড়ামারা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিষেধ করলেও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকাধীন রেলের পুকুর ভরাট বন্ধ করেনি কর্তৃপক্ষ।

ভেড়ামারায় রেলওয়ের পুকুর ভরাটের অভিযোগ

ভেড়ামারায় রেলওয়ের পুকুর ভরাটের অভিযোগ

ভেড়ামারায় রেলওয়ের পুকুর ভরাটের অভিযোগ

এ ঘটনায় রেলওয়ে ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় রেলওয়ে কর্মকর্তা। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌরসভার মেয়র মো. আনোয়ারুল কবির টুটুল।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল আনুমানিক রাত ১১ টার দিকে ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকাধীন বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন ও রেকর্ডীয় ভূমির পুকুরে ভেড়ামারা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্পূর্ন অবৈধভাবে ট্রাক দিয়ে মাটি ও বালু ভরাট করছেন।

ভেড়ামারা পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে মাটি ও বালু দিয়ে পুকুর ভরাট না করার জন্য নিষেধ করা হয়। কিন্তু ভেড়ামারা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিজেদের খেয়াল খুশি মতো মাটি ভরাটের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

উক্ত পুকুরটি ভেড়ামারা কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটি কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণ পূর্বক মাছ চাষ করতেছেন এবং বর্তমানে তাদের মাছ পুকুরে রয়েছে। ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং বাজারের আশেপাশে আর কোন পুকুর বা জলাশয় নেই। ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় কোন ধরণের অগ্নিকান্ড ঘটলে উক্ত পুকুরটি পানি ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া পরিবেশ আইন অনুযায়ী পুকুর ভরাটে বাধা রয়েছে। ভেড়ামার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি না নিয়ে, কোন ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে রাতের আধারে পুকুর ভরাটের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

জনসাধারণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পৌরসভার এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শতবছরের পুকুরটিকে টিকিয়ে রাখা জরুরি। ভরাট বন্ধ করে পুকুরটি সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা বলেন, রাতের আধারে রেলওয়ের পুকুরটি ভরাট করে দখল করার পায়তারা করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তারা এখানে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনায় নেমেছে। আমরা সাধারণ অসহায় মানুষ, প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নেই আমাদের। পুকুর ভরাটের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। পুকুরটি দখলমুক্ত করে সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুরটি টিকিয়ে রাখা জরুরি। এই অপরাধের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৩ নম্বর কাচারি পোড়াদহের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগো মো. সাহিদুজ্জামান বলেন, ভেড়ামারা পৌরসভা কর্তপক্ষ তাদের খেয়ালখুশি মতো অবৈধভাবে রাতের আধারে বালু ও মাটি দিয়ে রেলওয়ের পুকুর ভরাট করছে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এজাহারের অনুলিপি কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ বলেন, রেলওয়ের পুকুর ভরাটের বিষয়টি শুনে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কে বা কারা পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা করেছে তা আমরা নিশ্চিত হতে পারি নি। বর্তমানে পুকুর ভরাট করা বন্ধ রয়েছে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কারা পুকুর ভরাট করছে তা জানা যায়নি। পুকুর রেলওয়ের, বিষয়টি তারাই দেখবে। প্রয়োজনে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র মো. আনোয়ারুল কবির টুটুল বলেন, এক শ্রেণির দালাল চক্র তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য পৌরসভার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ রেলওয়ের পুকুর ভরাটের সাথে সম্পৃক্ত না। রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তা, প্রতিপক্ষের লোকজন ও রেলওয়ের জায়গার দখলবাজরা মিথ্যাচার করছে।

জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, কেউ আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি আইন অমান্যকারীর নিজ খরচে সেটা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

আরও পড়ুন: