মিরপুরে পানের বরজে সংঘটিত অগ্নিকান্ডে ১৫টি ঘর ভস্মীভূত
মিরপুরে পানের বরজে সংঘটিত অগ্নিকান্ডে ১৫টি ঘর ভস্মীভূত, প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা। কুষ্টিয়ার মিরপুরে ১৬ জনের মালিকানাধীন ২০ বিঘা পানের বরজের অগ্নিকাণ্ডে ১৫ টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে ১১টি পরিবার সম্পূর্ণ নি:স্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবযাপন করছে।

মিরপুরে পানের বরজে সংঘটিত অগ্নিকান্ডে ১৫টি ঘর ভস্মীভূত
মঙ্গলবার দুপুর ২টার সময় উপজেলার ৯নং পোড়াদহ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বেলগাছি গ্রামের কারিগর পাড়ার আবুল কাশেমের পুত্র মহিদুল ইসলামের বাড়ির পাটকাঠির বেড়ায় প্রথমে আগুন লাগে।পরে বেড়া সংলগ্ন পানের বরজের বেড়ায় আগুন লেগে পর্যায়ক্রমে ২০ বিঘা জমির পানের বরজই পুড়ে যায়।সে সময় বরজ এলাকা সংলগ্ন সমস্ত বাড়িতেই আগুন ধরে যায়।এতে আগুনে ১১টি পরিবারের ১৫টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
আগুনের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিদুল ইসলাম (৪৫) বলেন আমি মাঠে ছিলাম, বাড়িতে দুপুর আড়াইটার সময় এসে দেখি বাড়ির আশে পাশে সব জায়গায় আগুন জ্বলছে।ভর দুপুরে আগুন লাগায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়লে আগুন নেভাতে ব্যর্থ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন কিভাবে আগুন লেগেছে বুজতে পারছি না,তবে দৌড়ে গিয়ে দেখি মহিদুল ইসলামের বেড়ায় আগুন জ্বলছে,পরে সে আগুন নেভাতে না পারায় তার বাড়ির পাশে পানের বরজের বেড়ায় আগুন ধরে যায়। পরে তা সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
মহিদুল ইসলামের স্ত্রী জানান-ধারনা করছি পানের বরজ থেকে আগুন লেগেছে। আমি দৌঁড়ে গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বালছে এবং মুহূর্তের মধ্যে ঘরের চাল পর্যন্ত আগুন জ্বলে উঠেছে। আমি সব কিছু ফেলে চিৎকার করতে করতে বাড়ির বাইরে চলে আসি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১টি পরিবার। কুরবান মির্জার ছেলে আমির (৩০) বলেন, আমাদের বাড়িতে আমার ব্যবসার দুই লক্ষ টাকার মালামাল ছিল সব কিছু পুড়ে গেছে। কিছুই বের করতে পারিনি সব পুড়ে গেছে। এমন কি দলীলপত্রসহ ঘরের মধ্যে যা আছে সব পুড়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট, জমির দলিলসহ সরকারি-বেসরকারি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন ১. আমির আলী (৩০) পিতা কোরবান আলী, ২. সোহেল রানা (৩২) পিতা আমেজেদ ৩. আছমা খাতুন, ৪. আসলাম (৩০) মাতা আসমা খাতুন, ৫. কুদ্দুস (৫০) পিতা দিদার আলী, ৬. সুজন (৩০) পিতা কুদ্দুস ৭. ফেরদৌস (৩৫) পিতা কুদ্দুস ৮. আবু বকর (৪৫) পিতা গনি, ৯. আতিয়ার (৪৭) পিতা দিদার ১০. মনোয়ারা বেগম (৫০) স্বামী গনি, ১১. ইসলাম (৪০) পিতা কাশেম।

মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান জন বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ১৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতের পরিমাণ বোঝা যাচ্ছে না তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি পরিবারের প্রতি পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাউল, ৩টা কম্বল, এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের সহায়তায়, তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
