কুমারখালীতে চুরির ভয়ে গরু পাহারায় দুই গ্ৰামের মানুষ
চোর আতংকে নির্ঘুম রাত পার করছেন কুষ্টিয়া কুমারখালী পৌরসভার ৮/৯ ওয়ার্ডের খয়ের চারা গ্ৰামের মানুষগুলো। এলাকায় গ্ৰাম ২ শ’ অধিক গরু ও ছাগল রয়েছে। চুরির ভয়ে গরু পাহাড়ার রাত যাপন করছেন এলাকাবাসীরা। কেউ রাস্তায় কেউ গরুর ঘরের পাশে বসে গরু পাহারা দিচ্ছে।

কুমারখালীতে চুরির ভয়ে গরু পাহারায় দুই গ্ৰামের মানুষ
সরোজমিনে গিয়ে শুক্রবার রাত ১২ টার সময় গিয়ে দেখা যায় এলাকার মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন। হাতে লাঠি, মুখে বাঁশি, বাজিয়ে সতর্ক করছেন। তাদের কাছে গিয়ে বিষয়টি কি জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, আমরা চোর আতঙ্কে এলাকাবাসী পাহারা দিচ্ছি। কেউ গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছে কেউ বা রাস্তায় ঘুরে -ঘুরে এলাকা পাহারা দিচ্ছি।
চোরের ভয়ে গরুর মালিকরা চিন্তিত । এলাকা ও এলাকার আশপাশ জুড়ে ঘরে ঢুকে গরুসহ জিনিসপত্র চুরি বেড়েছে। প্রতিরাতেই সংঘবদ্ধ চোরের দল কোনো না কোনো এলাকার চুরি করছে। অনেক এলাকায় পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। আবার কিছু এলাকায় গরু পাহারা দিতে গরুর সঙ্গে গোয়ালঘরে ঘুমাচ্ছেন গৃহস্থরা। উপজেলায় প্রতিনিয়ত গরু চুরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও খামারিরা।
খয়েরচারা গ্ৰামের লিটন মন্ডল জানান, আমার গরু গুয়াল ঘর থিকে গত দুই দিন আগে চুরি হয়েছে। গরু চুরি ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি দরকার। আমরা পাহারা দিয়েও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।

গরু খামারি লুকু মন্ডল জানান, একটি গরু একটি স্বপ্ন , সেই গরু যদি চরি হয়ে যায় তাহলে কি অবস্থা হয় বলে বুঝানো পারবোনা। তিনি আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় চোরের উপদ্রব বেশি। প্রায় প্রতি রাতে গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া এসব এলাকায় ভ্যান, সাইকেল, পানি তোলার পাম্পসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গরু চুরির পর এক জায়গায় গরু অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় নিয়ে যায় তাও বুঝতে পারছে না কেউ। এসব ঘটনায় থানায় খুব কম অভিযোগ জমা পড়ে। অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্থরা প্রতিকার না পাওয়ায় থানায় অভিযোগ করেন না। গত কয় একমাস ধরে হঠাৎ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান। এ ঘটনায় গরু হারিয়ে হতদরিদ্র কৃষক পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
খয়েরচারা গ্ৰামের কৃষক আলম বলেন, রাত জেগে পালাক্রমে এলাকা পাহারা দিচ্ছি। প্রায় দিনই গ্ৰামে গরু চুরি করতে আসে চোর। পরে ধাওয়া দিয়ে গরু উদ্ধার করা হয়। এলাকার ভ্যান, সাইকেল ও রুবেলের পাম্প মেশিন চুরি হয়েছে। আমরা প্রতিদিন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি।
তেবাড়িয়া গ্ৰামের কৃষক হাবিব হোসেন বলেন, চোরচক্র আমার গাভী ও বাছুর চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি গাভী পালন করে দুধ বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালাতাম। এর কয়েক দিন আগে আমার গোয়াল ঘর থেকে গাভী ও বাছুর চোর চুরি হয়।তার চুরি যাওয়া দুই গরুর দাম প্রায় দুই লাখ টাকা বলে তিনি জানান। এর মধ্যে একটি গরু পাওয়া গেছে।

৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তুহিন শেখ জানান, গরু চুরি র কারণে এলাকাবাসীরা নিউ উদ্যোগে প্রসাশনের সহযোগিতা পাহারা দিচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের এলাকায় চুরি রোধে নজরদারিতে রাখবে এমন আশা করি।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল বলেন , চুরি, ছিনতাইসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। যে সব চুরির সংবাদ পাচ্ছি সেই সব এলাকায় ইতোমধ্যে পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। যারা পাহারা দিচ্ছে তাদের তালিকা করে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।
