কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে লাশ ময়নাতদন্তে অবহেলার অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে লাশ ময়নাতদন্তে অবহেলার অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ২৮, ২০২৩
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে লাশ ময়নাতদন্তে অবহেলার অভিযোগ

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে আত্মহত্যায় নিহত যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দীর্ঘ ২০ ঘন্টা অপেক্ষা করেছে নিহতের পরিবার। একেতো মৃত্যু শোক অন্যদিকে মর্গের সামনে রাতভর অপেক্ষা! ময়নাতদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলায় দরুন এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা। এ ঘটনায় তাঁরা বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে লাশ ময়নাতদন্তে অবহেলার অভিযোগ

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে লাশ ময়নাতদন্তে অবহেলার অভিযোগ

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে লাশ ময়নাতদন্তে অবহেলার অভিযোগ

জানা যায়, সোমবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে কুষ্টিয়া শহরের চৌরহাস ফুলতলা এলাকার মৃত মুসার ছেলে রাসেল (৩৫)। পরিবারের লোকজন বিকেল ৫ টা ২৫ শে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।সেদিন রাত হয়ে যাওয়ায় লাশের ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে লাশ নিয়ে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পরিবার ও স্বজনদের রাত কাটাতে হয় মর্গের সামনেই।

 

সেই রাত পেরিয়ে পরদিন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ২ টা বাজলেও শোকার্ত পরিবার ও স্বজনদের অশ্রুসিক্ত অপেক্ষার অবসান হয়নি।বারংবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে খবর দেওয়ার পরও তিনি মর্গে আসেননি। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ হোসেন ইমাম এসে ওই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার (২৮মার্চ) দুপুর ২ টা পর্যন্ত মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের পরিবার ও স্বজনরা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষমান রয়েছেন। তাঁদের কান্নাকাটিতে আকাশ বাতাস ভারী হলেও কৃপা হয়নি ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের। তিনি বারংবার সংবাদ পেয়েও ময়নাতদন্ত করতে মর্গে আসেননি।

নিহত রাসেলের ভাই খোকন জানান,” রাসেলের লাশ সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেই দিন সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় লাশের ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি।পরদিন সকাল থেকে বেশ কয়েকবার দায়িত্বরত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পায়নি।আমাদের আহাজারিতে ওই চিকিৎসকের দয়া হয়নি। এরপর কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার দুপুর ২টার পরে এসে লাশের ময়নাতদন্ত করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার(২৮ মার্চ) ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ডাঃ মেহেদী হাসান জনি।

ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা ডাঃ মেহেদী হাসান জনির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আজ হাসপাতালে একটি বড় অপারেশনের দায়িত্বে ছিলাম। সকাল ৯ থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অপারেশন থিয়েটারে ছিলাম। পরে মর্গে গিয়ে দেখি লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়ে গেছে। ”

এবিষয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ হোসেন ঈমামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ডাক্তার মেহেদী হাসান জনির মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সে আমার ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে আমি দুপুর ২টার দিকে নিজে গিয়ে লাশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছি। ”

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আজকের রোস্টার অনুযায়ী কোন ডাক্তার ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সেটা আরএমও সাহেব বলতে পারবেন। রোস্টার অনুযায়ী ডাক্তার সাহেব আর অন্য কোন দায়িত্বে ছিলেন কি-না সেটা যাচাই করে দেখা হবে। দায়িত্বে অবহেলা করে থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”