ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ২৬, ২০২৩
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধি (রিপ্রেজেনটিভদের) দৌরাত্ম্য দিন দিনই বেড়েই চলেছে। দিনভর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে থাকে হাসপাতাল। তাদের দৌরাত্ম্যে নানা হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। চিকিৎসকের কক্ষে সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও মানছেন না কেউ। রোগীরা বের হলেই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে চলে টানাহেঁচড়া। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন তারা।

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি

রবিবার (২৬ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ও ভেতরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড় লেগেই আছে। অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন। ছবি তোলেন, দেখেন কোন কোম্পানির ওষুধ লেখা হয়েছে। অনেকেই আবার নিজেদের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে রোগী বা তার স্বজনদের বিভিন্ন ক্লিনিক বা ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শও দেন। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে তারা ভিজিট করে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। কোনো রোগীকে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকতে দেখলেই ১০-১২ জন প্রতিনিধি ওই কক্ষের সামনে এবং ভেতরে ভিড় করছেন। আবার কেউ কেউ রোগীকে অপেক্ষায় রেখে তাদের ভিজিট সেরে নিচ্ছেন। এর বাইরে প্রতিনিয়তই চোখে পড়ে এসব প্রতিনিধিদের নানান দৃশ্য।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

সরকারি এ হাসপাতালটিতে রোগীরা ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্রই বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের পথে দাঁড় করিয়ে ব্যবস্থাপত্র টেনে নিয়ে সেটির ছবি তুলে রাখেন। প্রায়ই দেখা গেছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ভিড় করে আছেন। সেই ভিড়ে ঠেলে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকতে হচ্ছে রোগীদের। আবার ভেতরে প্রবেশ করলেও দেখা যায় সেখানে চলছে ভিজিট। এভাবেই প্রতিদিন সরকারি এ হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডাক্তারের সঙ্গে ভিজিট করার অনুমতি দিয়েছেন। তাই আমরা ডাক্তার ভিজিটে আসি। এর বাইরে কিছুই বলতে পারবো না।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন সাব্বির বলেন,সকাল থেকেই তারা সেখানকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবাধ বিচরণ করতে থাকেন। সেই সঙ্গে তারা সিস্টারদের কাছে থাকা রোগীদের ফাইল নিয়েও টানাটানি করেন। সিস্টাররাও তাদের কাছে নির্দ্বিধায় ফাইল দিয়ে দেন। মনে হচ্ছে বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তুলেছেন তারা।

নাম-প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী বলেন, আমি ডাক্তারের কক্ষে ঢুকেই দেখি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কক্ষে ঢুকে ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি।

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পীযূষ কুমার সাহা বলেন, আমার কক্ষের সামনে কোনোভাবেই অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো কোনো প্রয়োজনে তারা দেখা করতে আসেন। হাসপাতাল চলাকালীন সময়ে তাদের ভেতরে আসার নিয়ম নেই, এটি তাদের নিষেধ করা আছে। এরপরেও তারা ভিজিটে আসেন।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহে দুদিন ভিজিটে আসতে পারবেন তারা সেটিও নির্ধারিত সময়ে। হাসপাতাল চলাকালীন সময়ে তাদের ভেতরে আসার নিয়ম নেই, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন: