কুষ্টিয়ায় সোহান’স কোচিং এর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ!
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সামনে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারের একটি সোহান’স। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির স্পেশাল প্রোগ্রাম সহ বাহারি শ্লোগানে চলমান সোহান’স কোচিং সেন্টার। বহুল আলোচিত এই কোচিং সেন্টারের পরিচালক, একজন শিক্ষক ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে কোচিং সেন্টারের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব সহ কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কুষ্টিয়ায় সোহান’স কোচিং এর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ!
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রীর মা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) কুষ্টিয়া মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযুক্তরা হলেন- সোহান’স এর পরিচালক ও স্বতাধিকারী নাহিদুল ইসলাম সোহান(৩৫),ইংরেজি শিক্ষক ফয়সাল আহম্মেদ তুর্য (৩০) ও অফিস সহকারী আশরাফুল ইসলাম(৩২)।
এছাড়াও ১০ বছরের অধিক সময় ধরে কোচিং ব্যবসা চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেলেও সরকারের ঘরে রাজস্ব জমা দেওয়ার পরিমাণ শূন্য। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের চোখে ধুলো দিয়ে কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে এই সোহান’স কোচিং এর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সামনে অবস্থিত সোহান’স কোচিং এর ইংরেজি শিক্ষক ফয়সাল আহম্মেদ তুর্য (৩০) তাদের কোচিংয়ে অধ্যায়নরত প্রস্তুতি ব্যাচের এক ছাত্রীকে বেশ কয়েকবার প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দেয়। বিরক্ত হয়ে ঐ ছাত্রী প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী আশরাফুল ইসলামকে বিষয়টি জানান। তিনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ঐ ছাত্রীকে প্রেম এবং কুপ্রস্তাবে রাজি হওয়ার পরামর্শ দেন। সেই সাথে আশরাফুল বিষয়টি তূর্যকে জানিয়ে দেন। এরপর শিক্ষক নামধারী তুর্য আবার ঐ ছাত্রীকে অশ্লীল কথাবার্তা বলেন।
আরো জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা কোচিং-এর পরিচালক ও স্বতাধিকারী নাহিদুল ইসলাম সোহানের ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারে ফোন করে জানালে তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন। পরদিন ঐ ছাত্রী মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কোচিং সেন্টারে পড়তে গেলে তুর্য আবারও তাকে কুপ্রস্তাব সহ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেসময় কোচিং এর পরিচালক নাহিদুল ইসলাম সোহান ঐ ছাত্রীকে একাকি ডেকে নিয়ে কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করেন এবং এ বিষয়ে তুর্যকে কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান। এছাড়া অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ঐ ছাত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি সহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন ঐ ছাত্রীর মা।
অন্যদিকে, অভিযোগ থেকে নিজেদের বাঁচাতে নাহিদুল ইসলাম সোহান উল্টো ভুক্তভোগী ছাত্রীর ফুফাতো ভাইদের সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নারী কেলেঙ্কারির বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি জানার পর থানায় উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ দার এবং রাতেয়র আঁধারে কয়েকজন সাংবাদিককে ডেকে ইচ্ছামতো ভিডিও বিবৃতি দেন নাহিদুল ইসলাম সোহান। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হবার পর অনেকেই বিষয়টি নিয়ে তাদের নেতিবাচক মন্তব্য নিজেদের টাইমলাইনে স্ট্যাটাস আকারে পোস্ট করেন। সেই স্ট্যাটাসগুলোর নিচেও এই কোচিং নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের সিরিয়াল পরে যায়। যেখানে এই ধরণের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা সোহান’স কোচিংয়ে প্রথম না বলে কোচিং সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করে অনেকেই মন্তব্য প্রদান করেন।

এদিকে, ডিডিও ভাইরাল হবার পর স্থানীয় কাউন্সিলর রক্তিম উদ্দিন কোয়েল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে তিনি লিখেছেন (হুবহু তুলে ধরা হলো) – “আমার মামাতো বোন গত পাঁচ ৫ তারিখ সোহান ভার্সিটি কোচিং এ ক্লাস করতে গেলে তূর্য ছাড় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে আমরা সোহান ভাইকে আমি বলি ভাই তূর্য স্যারের এই ঘটনা। তখন ভাই বলে আমি দেখছি ব্যাপারটা। এতে ৩ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো সমাধান না হওয়াতে আমরা আইনের দ্বারস্থ হয় এবং কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ জমা দেই। এতে সে নিজে বাঁচার জন্য আর নিজস্ব স্টাফকে শিখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে। সে ভার্সিটি কোচিং নামেসমস্ত প্রকার নোংরামি ওখানে চালাই তার কোচিং গলিতে আধিপত্য বিস্তার অনৈতিক কাজের জন্য একটি রুম সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত নয় নেওয়া আছে যেখানে সোহানসহ কোচিং এর সোহানসহ বিভিন্ন স্টাফ ও টিচারা মেয়েদের ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে ওই রুমে বিছানার সঙ্গী করে।
সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন সময় আমার ছোট ভাই বাঁধন অন্তর তামিম অন্তু ছাত্রলীগ সালমান শাহ জিসান সহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনকে ব্যবহার করেছে। সে জোরপূর্বক ভাবে তানজিল স্যারের ব্যবসায়িক মানবিক শাখার ফোরটি পার্সেন্ট টাকা আত্মসাৎ করেছে। সোহান পাশা স্যারের মানবিক শাখা জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে তার অর্থ না পরিশোধ করে বিভিন্ন সময় তালভা না দেখিয়ে কুষ্টিয়া শহর থেকে বিদায় করে দেয়। আমাদের অভিযোগ থেকে বাঁচতে মিথ্যা ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমার সম্মান হানি করার চেষ্টা করছে।
বিষয়টি নিয়ে সোহান’স কোচিং এর পরিচালক বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর সহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন সময় তার থেকে চাঁদা নিয়ে আসছেন। সবশেষ চাঁদা দাবি করার পর অফিস থেকে তার সহকারীকে ডেকে নিয়ে বেধরক মারপিট করার পর তিনি কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে কেন চাঁদা দাবির অভিযোগ করেননি, এবার কেন করলেন? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নামধারী তুর্য ও অফিস সহকারী আশরাফুলের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রক্তিম উদ্দিন বলেন,ছাত্রীদের অশ্লীল প্রস্তাব ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনা সোহান’স ভার্সিটি এডমিশন কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের এটি নতুন নয়,একাধিক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা আড়াল করতে আমার নাম ও আমার ভাইদের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রীর মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি জানান, এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না । আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি । বিষয়টা আমি আইনের উপর ছেড়ে দিয়েছি ।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খাঁন মুঠোফোনে বলেন, থানাতে পাল্টাপাল্টি দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, এই সোহান’স কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলেও অদৃশ্য কারণে সেসব ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রসাশন। তাছাড়া এই কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে আরো বেশ কিছু অভিযোগ ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে কোচিং সেন্টারের আড়ালে রমরমা জুয়া ব্যবসা, রাজস্ব ফাঁকি সহ নানান অভিযোগ রয়েছে। সেসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমাদের পত্রিকায়।
