বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৩-২০২৪ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে একটানা বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন সুত্র নিশ্চিত করেছেন এবারের নির্বাচনে ১৭টি পদের জন্য ৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন।

সভাপতি হলেন নুরুল ইসলাম দুলাল, শেখ আবু সাঈদ সাধারন সম্পাদক
এ নির্বাচনে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির ৪২৮ জন ভোটারের মধ্যে ৪১৮ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেন এবং একটি ভোট বাতিল হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকবারের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড.নুরুল ইসলাম দুলাল ২৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নেতা সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড.হারুনুর রশিদ ১৫৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
এ্যাড. নুরুল ইসলাম দুলাল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১০২ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শেখ আবু সাঈদ ২৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ্যাড. মেহেদী হাসান সিদ্দিকী ১৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। অপর প্রার্থী এ্যাড.কামরুল ইসলাম খোকন ৯ পেয়েছেন।
এ্যাড.শেখ আবু সাঈদ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ৬০ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এ্যাড.তানজিলুর রহমান এনাম ২১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম এ্যাড.আব্দুল ওয়াদুদ প্রতিদ্বন্দ্বী ১৯৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। সহ-সভাপতি পদে এ্যাড. এস,এম মনোয়ার হোসেন মুকুল ২২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ্যাড.শামসুজ্জামান মনি ১৮৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এ্যাড.হাসান রাজ্জাক রাজু ২১৯ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ্যাড.ইকবাল হোসেন টুকু ১৯৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
কোষাধাক্ষ পদে এ্যাড. এস এম শাতিল মাহমুদ ২৬৩ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ্যাড.তোফাজ্জেল হোসেন ১৫০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। গ্রন্থগার সম্পাদক পদে এ্যাড.সোহেলী পারভীন ঝুমু ২২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ্যাড.ওয়ালী-উল-বারী ১৮৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সিনিয়র সদস্য ও জুনিয়র সদস্য পদে ভোট গণনা চলছিল।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এ্যাড. আব্দুস সাত্তার (শাহেদ) ও এ্যাড.শামীম হোসেন দপ্তর সম্পাদক পদে এ্যাড.আব্দুল্লাহ আল মামুন (মোহন) ও এ্যাড.মোস্তাফিজুর রহমান। সিনিয়র সদস্য পদে এ্যাড.আবু আজম, এ্যাড.কাজী সিদ্দিক আলী, এ্যাড. নিজাম উদ্দিন (২), এ্যাড.রাজীব আহসান রঞ্জু, এ্যাড.আকতারুজ্জামান (আক্তার), এ্যাড.মফিল উদ্দিন মন্ডল ও এ্যাড. রিফাত জাহান মুন্না। জুনিয়র সদস্য পদে এ্যাড. জমিরন খাতুন, এ্যাড.আব্দুর রাজ্জাক, এ্যাড. মোকাদ্দেস আলী এ্যাড. উজ্জল হোসেন ও এ্যাড. সাইফুর রহমান (সুমন), চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও ভোট দিতে ইচ্ছুক আইনজীবীরা সকাল ৭ টা থেকেই ভীড় জমায় সমিতি ভবনের সামনে এসে। চলে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচনী ক্যাম্পে বসে চা-নাস্তা আর খোস গল্প। আবার কেউ কেউ অনুপস্থিত ভোটারদের ভোট কেন্দ্র আনার কাজে সব সময় ব্যস্তও থেকেছে ভোট গ্রহণ চলাকালীন সময়ক্ষন। অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ভোট গননা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বলায় ঢেকে রেখেছিল ভোটকেন্দ্র।
এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন-সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড.আব্দুল মোতালিব। তার সাথে নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড.আশরাফ হোসেন ও এ্যাড.মঞ্জুরুল আলম (সান্নু)।
