কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ দিনমজুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েন বিএনপি নেতা, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী, স্থানীয় প্রশাসনসহ অনেকই। পরিবারটিকে পুনর্বাসনের জন্য কেউ নগদ টাকা, কেউ বাঁশ – খ্ুঁটি, কেউবা দিয়েছেন খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা।
সবশেষ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা মানবিক সহায়তা দেন খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী মো. রিপন হোসেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিন উপস্থিত হয়ে দিনমজুর হাসান আলীর হাতে নগদ টাকা তুলে দেন। এ সময় অন্যান্য বিএনপি নেতা, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসান আলী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী রেলপাড়া এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। পেশায় দিনমজুর হাসান আলীর নিজস্ব কোনো জায়গা – জমি নেই। রেলের ধারে টিনের ছাবড়া ঘরে স্ত্রী নুপুর খাতুন, প্রতিবন্ধী ছেলে হোসেন আলী (৫) ও বৃদ্ধ মা ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে বাস তাঁর।
গত ৫ অক্টোবর ভোরে তাঁর বাড়িতে আগুন লাগে। প্রতিবেশিরা ছুটে এসে প্রায় ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে ততক্ষণে ঘরে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা, আসবাব, চাল – ডাল, কাপড়চোপড়, ঘরসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ নিয়ে ওইদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে’ ২০ মিনিটের আগুনে সব শ্যাষ, অবশিষ্ট শুধু খুঁটি কয়ডা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অসংখ্য মানুষের মনে নাড়া দিলে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল উদ্দিন বাবু ২১ হাজার টাকা, আমেরিকান প্রবাসী শাহেদ আহমেদ ১২ হাজার টাকা, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর ইসলাম খোকন ২০ হাজার টাকা এবং খোকসা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী রিপন হোসেন ২০ হাজার টাকা মানবিক সহায়তা করেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ্য থেকে দুই বস্তা শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, রেললাইন ঘেঁষে বেশকিছু বসতি গড়ে উঠেছে। সেখানকার দিনমজুর হাসান আলীর বাড়ির স্থানটি ফাঁকা। পড়ে আছে কয়েকটি পোড়া খুঁটি ও কিছু আসবাব।
এ সময় হাসান আলী জানান, ২০ মিনিটের আগুনে তাঁর স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নতুন ঘর নির্মাণে তাঁর সামর্থ নেই। বর্তমানে পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছি।
তিনি বলেন, ‘ আগুনে পোড়ার পর তা নিয়ে খবর হলে অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ বিএনপি নেতা ২০ হাজার টাকা দিছেন। আর ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হলেই নতুন ঘর তৈরির কাজ শুরু করবো। ‘
কাঁদতে কাঁদতে হাসানের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, কাপড়চোপড়, হাড়ি – পাতিল কিছুই নাই। মানসে কয়ড়া খাবার দিচ্ছে, থাকতে দিচ্ছে তাই আছি। এখন আপনারা সাহায্য দিলেন, তা দিয়েই আবার ঘর তোলবনে। আপনারা যা দিছেন, তাতেই বহুত খুশি।
ফেসবুকে সংবাদ দেখেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসার কথা জানালেন খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিপন হোসেন। তিনি বলেন, খুব অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। সাধ্যমতো ২০ হাজার টাকা সহায়তা করেছি। আরও অনেকেই দিয়েছে। অন্যদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ঘটনার দিন শুকনো খাবার সহযোগীতা করা হয়েছে। লিখিত আবেদন পেলে সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগীতা করা হবে।









