বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের একটি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির ৫-৬ জন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার ইবি থানাধীন পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড নলকোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান জানান, নলকোলা গ্রামের নলকোলা মোড়ে অবস্থিত কৃষক দলের কার্যালয়ে আমাদের দলীয় ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করছিলাম। একটি মুহূর্তে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করে। তিনি আরো জানান, কুষ্টিয়ায় নাশকতা মামলায় জামিনে এসে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি রুহুলের নেতৃত্বে “জয় বাংলা “স্লোগান দিয়ে আওয়ামীলীগের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এতে বিএনপির কয়েকজন সমর্থকরা আহত হয়েছেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা আওয়ামীলী যুবলীগের নেতা রুহুলের বাড়ি ভাংচুর করে এবং তার পাটের গোডাউনে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, সন্ধ্যার পর উক্ত কার্যালয়ে বিএনপি সমর্থকেরা রাজনৈতিক আলোচনা করছিলেন। এসময় স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের নেতা রুহুলের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জন লোক “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে বিএনপির অফিসে হামলা চালায় ও ভাংচুর করে বিএনপি সমর্থকদের আহত করে। এতে বিএনপির বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকেরা জানিয়েছেন।
তারা আরও জানান, গত কয়েকদিন আগে আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা মিছিল করার অপরাধে কুষ্টিয়া ইবি থানায় একটি নাশকতা মামলা দায়ের হয়। এতে আওয়ামীলীগ নেতা রুহুল সহ অনেকেই আসামী হয়। ওই মামলায় আদালত আওয়ামীলীগের স্মর্থকেরা জামিন পেয়ে এলাকায় মিষ্টি মুখ করে বিএনপি অফিসে এই হামলা ভাংচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। হামলার সাথে কারা জড়িত? মুঠোফোনে প্রশ্নের জবাবে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আব্দুর রহমান ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, হামলায় যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নলকোলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কার্যালয়ে সভা চলাকালে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি নলকোলা গ্রামের মৃত সেলিম আহাম্মেদের ছেলে রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে, তারই সমর্থক সামছুল আলমের ছেলে মাহফুজ আনাম রাসেল, আব্দুল আলিমের ছেরে তৌহিদ আলী, মৃত দবির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে সাবান আলীসহ অনেকে আকস্মিকভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা করে। এতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের ছবি ছিঁড়ে তাদেরকে লাঞ্ছিত করে ও অফিসে ভাঙচুর চালায়।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই অভিযুক্ত রুহুল আমিন ও তার সহযোগীরা পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত রয়েছেন। সর্বশেষ কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, ঘটনাস্থলে ইবি থানা পুলিশ উপস্থিত রয়েছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া এবিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মামুনুর রশিদ (মুঠোফোনে) জানান, সংবাদ পেয়ে থানার ফোর্সসহ আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।









