কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ১:২৮ এএম

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বুক ও পেট থেকে জোড়া লাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটির মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ।
উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় বিরল এই জোড়া লাগা যমজ কন্যাশিশু। জন্মের পর থেকেই জয়নব ও উম্মে কুলসুম বুক থেকে পেট পর্যন্ত অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত ছিল।
চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা ছিল। তবে দরিদ্র পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের খরচ ছিল বড় বাধা। শিশু দুটিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে সরকার জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেয়।
রোববার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসানকে ফোন করে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, শিশু দুটির অস্ত্রোপচার, পরবর্তী চিকিৎসা, ফলোআপসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বহন করবে। এরপর কালবিলম্ব না করে সোমবার শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা শুরু হয়।
পরিবারের সদস্য জাহিদ হোসেন জানান, সোমবার দ্রুত শিশু দুটিকে নিয়ে তারা ঢাকায় রওনা হন। গতকাল বুধবার দুপুরের পর হঠাৎ তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিশুদের বাবা নাহিদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছিল ও চিকিৎসকরাও চেষ্টা করেছিল। আমরা আশা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম।
কিন্তু আল্লাহ আমার দুই সন্তানকে তুলে নিলেন। এখন আমরা তাদের লাশ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি।’ সন্ধ্যার পর শিশু দুটির নিথর দেহ নিয়ে ঢাকা থেকে দৌলতপুরের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন স্বজনরা। এরপর শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান ও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর শিশু দুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল।
গতকাল বুধবার দুপুরে তাদের অবস্থা খারাপ হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। জোড়া লাগা এই দুই শিশুকে ঘিরে পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও ছিল নানা প্রত্যাশা। সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের আলাদা করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবে রূপ নিল না।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য