সন্তানের মৃত্যুতে মায়ের আহাজারি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সন্তানের মৃত্যুতে মায়ের আহাজারি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নানাবাড়ি বেড়াতে এসে ডুবে মারা গেছে সাউবান (৬) নামের এক শিশু। এ সময় সিফাত (৫) নামের অন্য শিশু গুরুতর আহত হয়। গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর হাসিমপুর ইকোপার্ক সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সাউবান খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিলজানি এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে। তার নানা আজিজুল হকের বাড়ি হাসিমপুরে। আর আহত সিফাত হাসিমপুরের জালাই সরদারের ছেলে। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সাউবান পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকে।

গত শনিবার বিকেলে মা গোলাপী খাতুনের সঙ্গে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। রোববার স্বজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাউবান ও প্রতিবেশী সিফাত খেলতে বের হয়। এর পর হাসিমপুর পদ্মা নদীতে পানিতে একজোড়া স্যান্ডেল ও সিফাতকে ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। সিফাতকে উদ্ধার করে হাসিমপুর বাজারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্বজনেরা সাউবানের জন্য পদ্মা নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পরে একই জায়গা থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রোববার দুপুরে হাসিমপুর গ্রামে দেখা যায়, নানার ঘরের বারান্দায় শিশু সাউবানের মরদেহ রাখা।

আঙিনার কোণে বসে আহাজারি করছেন মা গোলাপী খাতুন। এ সময় বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘কালকে (শনিবার) বিকালে আমি বাড়ি আইছি রে। কী কামে আমি আলাম রে? আমি ক্যা বাড়ি আলাম রে? ও আল্লাহ, আমার সোনা একসঙ্গে বসে আম খাইছি রে। এরপর আমি ডিম ভাজতে গিছি রে। এরমধ্যে আমার বেটা বাড়া (বাইরে) গেছে রে..।’ তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন স্বজনেরা। পাশের বাড়িতে বাকরুদ্ধ সিফাতকে গোসল করিয়ে শরীরে তেল মালিশ করছিলেন স্বজনেরা। নাম ধরে ডেকেও সাড়া মেলেনি। সেখানেও পাড়া-প্রতিবেশীর ভিড়।

এ সময় সিফাতের মা শেফালী খাতুন বলেন, সবার অজান্তে ওরা খেলতে গিয়েছিল। তবে কীভাবে নদীর কূলে গেল বা পানিতে পড়ল– বুঝতে পারছি না। আতঙ্কিত সিফাত কারও সঙ্গে তখন পর্যন্ত একটি কথাও বলেনি। কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অন্য শিশু বাড়িতে চিকিৎসাধীন। কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।