প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬

মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরির মাধ্যমে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে  একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার (১১২) নং চরআগ্রাকুণ্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ কাজের অর্থ । জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ‘মেসার্স শরিফুল ইসলাম’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রেহেনা খাতুন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স শরিফুল ইসলাম। এর মধ্যে চরআগ্রাকুণ্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজের বরাদ্দ ছিল ১৩ লক্ষ ৩ হাজার ৯০০ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুনকে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।

এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকের অজান্তে তাঁর স্বাক্ষর ও সিল জাল করে একটি ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে এলজিইডির কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে জমা দেয়। অভিযোগ, এলজিইডি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ওই জাল প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২২ জুন ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল প্রদান করে এবং ২০২৬ সালের ৩ মার্চ জামানতের ৫ শতাংশ টাকাও ফেরত দেয়। প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রেহেনা খাতুন বলেন, ‘আমি কোনো প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিনি। আমার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করা একটি গর্হিত অপরাধ। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ঠিকাদারের লোকজন আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হয়রানি করছে।’

তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার পাপ্পু বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কুমারখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল মুনীরা বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। কাজ বুঝে নিয়ে প্রত্যয়ন প্রদানের দায়িত্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের, এখানে আমাদের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে আমাদের একজন শিক্ষকের সাথে এমন অন্যায় আচরণ কাম্য নয়, আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।’

কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, ‘আমি মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি এবং স্বাক্ষর জালের বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। এটি সমাধান না হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, ‘অভিযোগটি পাওয়ার পর আমরা তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুত আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।