চৌড়হাসে বিএটিবি তামাক প্রসেসিং কেন্দ্রে শ্রমিক বৈষম্যের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

চৌড়হাসে বিএটিবি তামাক প্রসেসিং কেন্দ্রে শ্রমিক বৈষম্যের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো এর জিএলটিপি চৌড়হাস কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটির উৎপাদিত সিগারেটের কাঁচামাল তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের এ কেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন বলে জানা গেছে। শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চৌড়হাস তামাক প্রসেসিং কেন্দ্রটি মৌসুমি বা ছয় মাসের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

তবে দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি কর্মচারীদের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির উদ্যোগে চলতি মৌসুম থেকে ঢাকা শ্রম অধিদপ্তর এবং সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটিকে বারো মাস বা নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি বারো মাসের কার্যক্রমে রূপান্তরিত হলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনও বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মৌসুমি ভিত্তিতে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রম অধিদপ্তরের একটি সূত্রের দাবি, বারো মাস পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আগের মতোই শ্রমিকরা এখনও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোগো সম্বলিত পোশাক পরে কাজ করছেন। কোম্পানির কিছু মৌসুমি শ্রমিককে স্থায়ী সুবিধার আওতায় আনা হলেও এমএসএম লজিস্টিক, সিহাব উদ্দিন, মতিয়ার রহমান, মমো ইঞ্জিনিয়ারিংসহ একাধিক ঠিকাদারের অধীনে কর্মরত অনেক শ্রমিকের ভাগ্যে স্থায়ী চাকরি জোটেনি। শ্রমিকদের অভিযোগ, কোম্পানির স্থায়ী শ্রমিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধায় ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। স্থায়ী শ্রমিকরা বিভিন্ন সরকারি ও কোম্পানির সুযোগ-সুবিধা পেলেও ঠিকাদারি শ্রমিকরা সেসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এছাড়া সামান্য কারণেও চাকরিচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় থাকতে হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। তাদের দাবি, শ্রমিক অধিকার বা বৈষম্যের বিষয়ে কথা বলতে গেলেই প্রভাবশালী ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর হুমকিও দেওয়া হয়। শ্রম অধিদপ্তর ও কুষ্টিয়া শ্রম অফিস কোম্পানি পরিদর্শন সম্পর্কে কুষ্টিয়া শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. তৌফিক হোসেন জানান, এখন থেকে এই প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকেরা ছয় মাস নয় বছরব্যাপী বেতন ভাতা পাবেন। তাদের হাইজেনিক নিয়ে একটা মামলা ছিল সেটা তারা সংশোধন করতে চেয়েছে পরে আমরা মামলা উঠিয়ে নেব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।