কুষ্টিয়া মেডিকেলে রোগীদের খাবারে পঁচা মাছ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া মেডিকেলে রোগীদের খাবারে পঁচা মাছ 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৯, ২০২৬

ঠিকাদারের হাতে মারধরের শিকার বাবুর্চি 

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে পঁচা মাছ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অনিয়মের প্রতিবাদ করায় হাসপাতালের এক বাবুর্চিকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী বাবুর্চি হাসিবুল হাসান শান্ত জানান, গত বুধবার দুপুরে হাসপাতালের রোগীদের জন্য সিলভার কার্প মাছ, মসুর ডাল ও সাদা ভাত সরবরাহের কথা ছিল।

রান্নার প্রস্তুতির সময় তিনি দেখতে পান, সরবরাহ করা মাছগুলো নরম হয়ে গেছে এবং সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। রোগীদের খাবারের উপযোগী না হওয়ায় তিনি বিষয়টি হাসপাতালের উপ-পরিচালককে অবহিত করেন। তিনি বলেন, আগের দিন মাথা কাটা সিলভার কার্প মাছ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। বুধবার সকালে মাছ ভাজার সময় বোঝা যায় মাছগুলো পচে গেছে। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

হাসিবুল হাসান শান্তের দাবি, অভিযোগ করার জেরে ঠিকাদার আব্দুর রহমান সজীব স্টোর কিপারের কক্ষে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ঠিকাদার আব্দুর রহমান সজীব। তিনি বলেন, আমি প্রায় এক বছর ধরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহ করে আসছি। এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

পঁচা মাছ সরবরাহের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি হয়তো কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য এমন অভিযোগ তুলেছেন। তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। প্রটোকল না মেনে সরাসরি পরিচালক ও উপ-পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেওয়ায় তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। সেখানে সামান্য উচ্চস্বরে কথা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি পরিচালক স্যার দেখছেন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বললেই ভালো হবে। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীর বলেন, পঁচা মাছ সরবরাহ ও বাবুর্চিকে মারধরের ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এটি মূলত ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে কাজ করতে গেলে সামান্য কথা-কাটাকাটি বা ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। এসব বিষয়কে বড় করে দেখার কিছু নেই। মাছ সরবরাহের বিষয়ে আমার কাছে সরাসরি কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে যে মাছ নিয়ে কথা উঠেছে, সেটি পুরোপুরি পচা ছিল না। বিপুল পরিমাণ মাছ সরবরাহের মধ্যে দু-একটি মাছ দুর্বল বা মানহীন হতে পারে, যা সবসময় নজরে নাও আসতে পারে।

পরিচালক দাবি করেন, হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নিয়মিত ওঠেনি এবং রোগীদের পক্ষ থেকেও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, পুরো ঘটনাটি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ একটি ছোটখাটো দ্বন্দ্ব, যা আমরা নিজেদের মধ্যেই সমাধান করেছি। তবে হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান নিয়ে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সচেতন মহল বলছে, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তাছাড়া অভিযোগ উঠার পরও পরিচালকের বক্তব্যে ঠিকাদারপক্ষকে সমর্থনের একটা বিষয় নিয়েও তারা কথা বলেছেন। যেটা পরবর্তীতে সংবাদ আকারে প্রকাশ করা হবে।