বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় প্রকাশ্যে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন পোড়াদহ কাপড় বাজারের ব্যবসায়ী মো. রাজু আহমেদ। মিরপুর থানায় দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা যায়, জিডি ট্র্যাকিং নম্বর জেডজেআইপি-১০ এবং জিডি নং: ৩৯৯, তারিখ ০৮ মে ২০২৬।
জিডির বাদী মো. রাজু আহমেদ (৩৫) উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পোড়াদহ কাপড় বাজারের পরিচিত ব্যবসায়ী। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মিরপুর থানাধীন চিথলিয়া রেলব্রিজ এলাকার গেটঘরের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই ছাত্র-ছাত্রীকে মারধর করছিল।
ঘটনাটি দেখে মানবিক কারণে প্রতিবাদ জানান রাজু আহমেদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে চিথলিয়া (রেলব্রিজ) এলাকার জাফর (৩৫), নয়ন (৪০), জনি (২৮) ও তরিকুল (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
একইদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রধান অভিযুক্ত জাফর একটি মোবাইল নম্বর থেকে রাজু আহমেদের ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করে তাকে “মেরে ফেলার” হুমকি দেয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া “গুলি করে খুলি উড়িয়ে দেওয়ার” হুমকি সংবলিত একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ ও তার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকাশ্যে একজন ব্যবসায়ীকে এভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজু আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে পোড়াদহ কাপড় বাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। তিনি সামাজিক বিভিন্ন বিষয়েও সক্রিয়। মানবিক কারণে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এখন তিনি হুমকির মুখে পড়েছেন।
জিডিতে বাদী ভবিষ্যতে নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন জানান। জিডিটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন মিরপুর থানার এএসআই (নিরস্ত্র) শফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে মিরপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রকাশ্যে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
