সরকারি জমিতে নয় তলা ‘বাগান বিলাস-৪’ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সরকারি জমিতে নয় তলা ‘বাগান বিলাস-৪’

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৬, ২০২৬

ফ্ল্যাট বিক্রি-ভবনে চলছে বসবাস 

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের বার্মিজ গলিতে ভিসা সেন্টারের সামনে সরকারি জমি দখল করে ‘বাগান বিলাস-৪’ নামে নয় তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে ভবনের অধিকাংশ ফ্লাট বিক্রি করে সেখানে বসবাস শুরু করেছেন ক্রেতারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল সাত্তারের নামে ২৩ নং মজমপুর মৌজার ১৮৭/৮৯৫ খতিয়ানের ১৬৬৪ নম্বর দাগে মোট ০.১২৭৫ শতাংশ জমির মধ্যে ০.০১৪২ শতাংশ সরকারি এবং ০.১১৩৩ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। জমির মালিকপক্ষ বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য কুষ্টিয়া বিল্ডার্সকে দায়িত্ব দিলেও প্রতিষ্ঠানটি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারি জমির অংশেও ভবন নির্মাণ করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মিত ভবনটি নয় তলা বিশিষ্ট।

নিচতলায় রয়েছে তিনটি দোকান এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। তবে ভূমি অফিসের নকশা অনুযায়ী যেখানে সরকারি জমি থাকার কথা, সেই অংশের উপরেও ভবনের অবকাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক বছর আগে পৌর ভূমি অফিস থেকে সেখানে সরকারি জমি চিহ্নিত করে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর সেটি রহস্যজনকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়।

তাদের ধারণা, ফ্ল্যাট বিক্রির সুবিধার্থেই সাইনবোর্ডটি অপসারণ করা হয়ে থাকতে পারে। এদিকে, একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া বিল্ডার্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, জমি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে মামলা চলমান এবং জমির মালিকই মামলাটি করেছেন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নথি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পূর্বেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। পূর্বে এ বিষয়ে তৎকালীন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাতুল ইসলাম জানান, তিনি নতুন হওয়ায় বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবেন।

একই সময়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পার্থ প্রতীম শীল বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে মালিকপক্ষ ও বিল্ডারদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং একটি রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে পরবর্তীতে কেউ যোগাযোগ করেনি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। বর্তমান কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জমি উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।