বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কুষ্টিয়া কার্যালয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। সাধারণ মানুষের কাছে যেন ভোগান্তির অন্য নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়া বিআরটিএ। ৮ম শ্রেণীপাস দালাল জুয়েল বিআরটিএ কুষ্টিয়া অফিসের ৩১৩ নং রুমে নিয়মিত বসে অফিস করছেন, নিজেকে পরিচয় দেন কম্পিউটার ইনচার্জ। জুয়েল নিজেকে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি কারারুল আরেফিন এর শ্যালক পরিচয়ে সেবা গ্রহীতাদের জিম্মীকরে করছেন ঘুষ বাণিজ্য।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জুয়েলসহ দালাল চক্রের মাধ্যমে মাধ্যমে বাড়তি অর্থ আদায়, নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে দ্বিগুণ তিনগুন অর্থ নেওয়া এখানে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স যেন সোনার হরিণ। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বিআরটিএ অফিসে দিনের পর দিন ধরনা দিতে হয়, পোহাতে হয় নানা ঝক্কি। অথচ দালাল ধরে টাকা দিলে পরীক্ষা ছাড়াই পাওয়া যায় ড্রাইভিং লাইসেন্স। অন্যদিকে টাকা না দিলে মেলে না গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট।
লাইসেন্স নবায়ন, যানবাহন নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন ও ফিটনেস সনদ প্রদানে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমান থাকলেও নেই কোন অভিযান। বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পরিচালক মাহাবুব রব্বানী ও মটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ এর বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিস স্টাফ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ৩১৩ নং রুমের কম্পিউটার ব্যবহার করার কথা মটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ এর কিন্তু তাকে কখনই কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেখা যায় না। সেটি ব্যবহার করেন দালাল জুয়েল। কম্পিউটার পরিচালনার জন্য কুষ্টিয়া বিআরটিএ অফিসে ৩ জন অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নিয়োগ প্রাপ্ত আছেন তারা হলেন আব্দুল মালেক, রুবেল হোসেন, ও রিফাত তবে তাদের কম্পিউটারে বসতে দেননা জুয়েল ও পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ।
ফাইল আটকে অর্থ লেনদেনের সুবিদার্থে গোপনীয় কাজ গুলো জুয়েলকে দিয়েই করান সহকারী পরিচালক মাহাবুব রব্বানী বলে জানা গেছে। বিআরটিএ কার্যালয়ে ক্যাজুয়াল বা মাস্টার রোলে কোন কর্মচারি রাখার বিধান নেই বলেও খোজ নিয়ে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা গেছে, একজন প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করার পর এক দিনের মধ্যেই ই-পেপার পাওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী আজ পরীক্ষা দিলে আজকেই রেজাল্ট হবে এবং আগামীকাল ই-পেপার প্রার্থীর হাতে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এমনটা হচ্ছে না। বিআরটিএ অফিসের গাফিলতির কারণে প্রার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সংশোধনীর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
কিন্তু প্রার্থীরা ১৫ থেকে ২০ দিন এমনকি মাস পেরিয়ে গেলেও ই-পেপার হাতে পায় না। ই-পেপার অ্যাপ্রুভ না দিয়ে সেবাপ্রার্থীদের শুধু শুধু ঘোরানো হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পরিচালক গোলাম রব্বানীর অদক্ষতার কারণে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সংশোধন, পেশাদার নবায়ন, অপেশাদার নবায়নের আবেদন প্রতিদিন শত শত ফাইল পেন্ডিং পড়ে থাকে। এ কারণে সেবাপ্রার্থীদের বিআরটিএ কার্যালয়ে দিনের পর দিন ধরনা দিতে হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের পরতে পরতে পোহাতে হয় ভোগান্তি। একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চার থেকে পাঁচবার ধরনা দিতে হয় বিআরটিএ কার্যালয়ে। ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড (মাঠ) টেস্ট পরীক্ষায় পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সরাসরি ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার সিরিয়াল পেতেও দিতে হয় বাড়তি টাকা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুয়েল বলেন আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করি। তিনি বিআরটিএ অফিস স্টাফ কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন জাবাব না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমানে সবকিছু অনলাইনে হয়। টাকা জমা হয় ব্যাংকে। ম্যানুয়ালি কিছুই করা হয় না। সহকারী পরিচালক আরও বলেন, যদি আমার অফিসের কেউ অবৈধভাবে টাকা লেনদেন করে থাকে এবং প্রমাণ পাওয়া যায় তা হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দালাল জুয়েল এর কম্পিউটার ব্যবহার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদউত্তর দিতে পারেন নাই।
