বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নৃশংসভাবে হত্যা করা সোহেল রানা (৪০) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যার পর তার মুখমণ্ডল পুড়িয়ে ও মরদেহ বিকৃত করে পরিচয় গোপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, ভেড়ামারা উপজেলার হরিপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে সোহেল রানা গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কোচস্ট্যান্ড এলাকার ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠে একটি ধানক্ষেতে তার বিবস্ত্র ও মুখমণ্ডল পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলেও পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করলে এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, দীর্ঘদিন জর্ডান প্রবাসী সোহেল রানার সঙ্গে পূর্বপরিচিত আসামি সুজনের বিরোধ ছিল। সেই সূত্র ধরে সুজন পরিকল্পিতভাবে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সোহেল রানাকে হত্যার চুক্তি করে। অগ্রিম হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কৌশলে সোহেল রানাকে সাতবাড়ীয়া বাজারে ডেকে নেয়া হয়। পরে মোটরসাইকেলে করে তাকে রামচন্দ্রপুর বিলের পাশে নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
লোহার রড, হাসুয়া ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ উলঙ্গ করে ফেলে রাখা হয়। পরে হত্যাকারীরা মরদেহের মুখমণ্ডলে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে বিকৃত করে এবং প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করে। ঘটনাস্থল থেকে পোশাক, ভাঙা মোবাইলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আগে গ্রেফতার হওয়া সুজন ও লিমনের পাশাপাশি সর্বশেষ মহিন উদ্দিন, জাহাবুল ইসলাম (জাবুল) ও শাওনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে এবং এরই মধ্যে ৩ জন আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ ও অর্থের লোভই মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও জানানো হয়। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
