সন্ত্রাসীদের দাপট-চাঁদাবাজি-দখল আর আতঙ্কে বন্দি জনজীবন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সন্ত্রাসীদের দাপট-চাঁদাবাজি-দখল আর আতঙ্কে বন্দি জনজীবন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৫, ২০২৬

দৌলতপুর ফিলিপনগর-মরিচা চরাঞ্চল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন চাঁদাবাজি, জবরদখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনীরা-এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীগর্ভে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের মূল্যবান জমি দখলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। তারা জোরপূর্বক জমি দখল করে প্রকৃত মালিকদের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করছে নতুবা চুপ করে সহ্য করে থাকতে বলছে। প্রতিবাদ করলেই নেমে আসছে নির্যাতন ও হামলার আশঙ্কা। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি কৌশলে বিভিন্ন পেশার মানুষকে টার্গেট করে চাঁদাবাজি করছে।

বিশেষ করে সদ্য পূর্ব ফিলিপনগর গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের এক শিক্ষক সহ নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করেছে সন্ত্রাসী বাহিনীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, “প্রতিবাদ করার সাহস নেই, জানমালের ভয় সবসময়ই থাকে।” এলাকায় অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য বিচরণে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অভিযোগ আছে, এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে পূর্বে লুটপাট, ডাকাতি, দস্যুতা, জবরদখল ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবুও প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ৫-ই-আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে! সন্ত্রাসীরা নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রকাশ্যেই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন-আর কতদিন এভাবে ভয়ে দিন কাটাতে হবে?দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজির এই লাগামহীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ফিলিপনগর, মরিচা ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ।