দুই কর্মচারী নিয়ে কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ নিরাপদ খাদ্য কার্যক্রম - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দুই কর্মচারী নিয়ে কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ নিরাপদ খাদ্য কার্যক্রম

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৪, ২০২৬

মাঠে নেই কার্যকর তৎপরতা

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ কার্যক্রম খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব প্রয়োগ খুব একটা দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় সূত্র ও সচেতন মহলের দাবি-নিয়মিত তদারকি, ভেজালবিরোধী অভিযান এবং খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের যে কার্যক্রম থাকার কথা, বাস্তবে তার উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত।

কুষ্টিয়া সদরসহ জেলার ছয়টি উপজেলায় অসংখ্য হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বেকারি ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলোর ওপর দৃশ্যমান নজরদারি খুব কমই চোখে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও তদারকির কথা বললেও এর বেশিরভাগই কাগজে-কলমে বা মৌখিক প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে কার্যকর কোনো কঠোর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলায় জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। মাত্র দুইজন কর্মচারী দিয়ে চলছে জেলার কার্যক্রম। এর মধ্যে একজন নমুনা সংগ্রহ সহকারী এবং অন্যজন অফিস সহায়ক। জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মূলত চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত, কুষ্টিয়ায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকাও কার্যক্রম পরিচালনায় বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে সমালোচকদের মতে, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান তৎপরতা বাড়ানো সম্ভব ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী ও ভোক্তা জানান, মাঝে মধ্যে তদারকির খবর শোনা গেলেও নিয়মিত নজরদারির অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানই নির্ভয়ে নিম্নমানের বা ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সজীব পাল বলেন, আমরা নিয়মিত বিভিন্ন খাদ্য স্থাপনা মনিটরিং করি এবং নিরাপদ খাদ্য আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করি। কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয়ের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা।

পাশাপাশি ভেজালবিরোধী অভিযান, মান নিয়ন্ত্রণ, নমুনা পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। তবে সচেতন মহলের অভিমত-শুধুমাত্র বক্তব্যে নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও কার্যক্রমের দৃশ্যমানতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও জোরদার ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরছেন তারা।