বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিসে প্রেষণে কর্মরত মোছা. জেসমিন আরার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক ভুক্তভোগী ব্যক্তি জমির নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত কাজে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ওই কর্মকর্তার কাছে অর্থ ফেরত চান। তিনি বলেন, “আমি আপনাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি, আপনি টাকা ফেরত দিন। আমি আর নামজারি করব না।” এ সময় জেসমিন আরাকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের সবার সঙ্গে কথা বলতে হবে, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি।” পরে তিনি মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে ভুক্তভোগীর কথা বলিয়ে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া, দালালচক্রের মাধ্যমে ফাইল পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হতো, আর দালালের মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হতো। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, নামজারির কাজ করতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও মাসের পর মাস ঘুরেও কাজ হয়নি। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অভিযুক্ত মোছা. জেসমিন আরার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে তার সাথে কথা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, আমার সঙ্গে সরাসরি কথা না বলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি বলা হয়েছে। আমার সঙ্গে কথা বললে পরিষ্কার হতো। অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সাময়িক বরখাস্ত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল বলছে, এর আগেও অভিযোগ উঠলেও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
