দৌলতপুর থানায় টাকার খেলায় সেবা! - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুর থানায় টাকার খেলায় সেবা! 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৭, ২০২৬

ওসিকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, অভিযোগ নিতে অর্থ দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত এবং এসব অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, থানায় সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, ওসি আরিফুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান মন্টি সরকার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে থানার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে একটি পোস্ট দেন। তিনি দাবি করেন, দৌলতপুর থানায় কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগপত্রের সঙ্গে দুই হাজার টাকা দিতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও অর্থ নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে আসেন।

তার ওই পোস্টে আরও বলা হয়, দৌলতপুর উপজেলার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকের স্পট রয়েছে এবং এসব ব্যবসা পরিচালনায় পুলিশকে নিয়মিত টাকা দিতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং পরে সেই ব্যবসা আরও বেড়ে যায়।

মন্টি সরকার আরও দাবি করেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক ও অস্ত্র প্রবেশের ঘটনায় কিছু অসাধু সদস্য জড়িত থাকতে পারে এবং নির্বাচনের আগে আসা অস্ত্রের চালান উদ্ধারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওসি আরিফুর রহমান দৌলতপুর থানায় যোগদানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আগে পুলিশের ভয়ে যারা এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করত না, এখন তারাই থানায় বসে চা পান করে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, থানায় সাধারণ ডায়েরি, অভিযোগ তদন্ত, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সেবায় ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে এসব লেনদেন পরিচালিত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অ

ন্যদিকে, থানার কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করতে আগ্রহী হলেও বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনীহার কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন না। এতে সৎভাবে দায়িত্ব পালনে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

এদিকে গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পর একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি আড়াল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই মহলের কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং ব্যক্তিস্বার্থে অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনপরিসরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর একাংশ বলছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও কমে যাবে। তারা অবিলম্বে দৌলতপুর থানার সামগ্রিক কার্যক্রম তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমানের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দৌলতপুরবাসীর প্রত্যাশা, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হোক এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হোক।