বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের থানা মোড় এলাকায় অবস্থিত কুষ্টিয়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল ইসলাম দ্বীপের ‘এন থ্রি কফি হাউস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কফি ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের একান্ত সময় কাটানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শহরের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়েও ভোরবেলা, সূর্য ওঠার আগেই দোকানটি খোলা হয় এবং সকাল ৬টার দিক থেকেই সেখানে তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা শুরু হয়। এলাকাবাসীর একাংশ জানান, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম চললে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
একাধিক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের কিছু বিষয় আংশিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ‘এন থ্রি কফি হাউস’-এর স্বত্বাধিকারী ও কুষ্টিয়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য নাজমুল ইসলাম দ্বীপ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আপনাদের কাছে যে তথ্য আছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না।”
অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মনে করেন, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
এদিকে, এই ঘটনার পর গতকাল রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতে স্থানীয়রা ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এই দ্বীপ।
বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলেও বন্ধ হয়নি এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার অপকর্ম। এখনো নিজেকে চরম ক্ষমতাধর মনে করেন তিনি। তার ই ধারাবাহিকতা এই কফি হাউসে অনৈতিক কর্মকান্ড করে চলেছেন বলে সচেতন মহল মনে করেন। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত বছরের ১৮ নভেম্বর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতায় তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন এবং তার অপকর্ম অব্যাহত রাখেন।
এ ব্যাপারে একাধিক জুলাই যোদ্ধাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল অপকর্ম ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এছাড়াও এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দ্বীপ জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতাকে দমাতে মাঠে সক্রিয় ছিল। এই আওয়ামী দোসরের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরের মুঠোফোন কল দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।
