বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের কাটাইখানা মোড় এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে উঠেছে মোল্লা মেটাল এ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কস নামে একটি মেটাল কারখানা। এতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কুষ্টিয়া কাটায় খানার মোড়ে অবস্থিত আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে স্থাপিত মেসার্স মোল্লা মেটাল অ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কস নামের কারখানাটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি থেকে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তাছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েও চিন্তিত তারা। এ বিষয়ে গত ৫ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এরপরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত বছরের ৬ মে এ বিষয়ে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মাহমুদও তাতে সুপারিশ করেন। আবেদনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলেও কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের এত কাছে কীভাবে একটি ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলো। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম)-কে জানানো আছে।
তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন এবং বিস্তারিত পরে জানাবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে এ ধরনের কারখানা স্থাপনের কোনো নীতিমালা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির একজন সদস্য হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে এটি তিনি আগে জানতেন না। তবে জেলা প্রশাসক তাঁকে আংশিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
আপনাদের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি জানতে পারলাম। অবশ্যই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পরও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, তদন্তের কথা বলা হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। দ্রুত কারখানাটি অপসারণ বা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
