খোকসায় হাইওয়েতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খোকসায় হাইওয়েতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৪, ২০২৬

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা হাইওয়ে মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলন্ত যানবাহনের গতি রোধ করে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন মোটর শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে খোকসা বাস স্ট্যান্ড চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোকসা পৌরসভার নামে নির্ধারিত টোল আদায়ের স্থান থাকলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কের ওপরই যানবাহন থামিয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছিল। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দায়িত্বপ্রাপ্ত খোকসা পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিকুল ইসলাম এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান চলাকালে তিনি দেশত্যাগ করেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। এদিকে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জোরদার হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এই কার্যক্রম। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মোটর শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন। কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা মহাসড়কের ওপর শুয়ে পড়েন এবং প্রায় এক ঘণ্টা (সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত) সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

এতে কুষ্টিয়া শহর থেকে পাংশা উপজেলার সংযোগ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন খোকসা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক তাসমিন জাহান। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে কিছুটা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। সেখানে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্টাফরাও উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একমাত্র দাবি ছিল, হাইওয়ে থেকে অবৈধ টোল আদায় সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

পরে পৌর প্রশাসক তাসমিন জাহান টোল আদায় বন্ধের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন এবং সড়ক থেকে সরে যান। পরবর্তীতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় চালকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের চাঁদাবাজির কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।