বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তবে তার জন্মদিন ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ৭ বা ৮ মে তারিখ পড়ে। বাংলাদেশ ও ভারতে এই দিনটি রবীন্দ্রজয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শৈশব জীবনে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহে দীর্ঘসময় বসবাস করেন। সে লক্ষ্যে তার স্মৃতি বিজড়িত বাসভবনের নাম করণ করা হয়েছে কুঠিবাড়ি।
প্রতিবছরে তাকে স্মরন করে রবীন্দ্রজয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়। তবে এবছরের আগামী ২৫ বৈশাখ ৮ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুষ্টিয়া আসছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের।
পরে দেশে ফিরে আসনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পান এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর শপথ পাঠ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায় প্রথমবার সরকারি সফরে আসবেন তিনি।
তবে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি এখনো চুড়ান্ত না হলেও ওই দিন কুষ্টিয়াতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে, বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। তিনি জানান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি এর কুষ্টিয়া জেলা আগমন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান উপদেষ্টা সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার), জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল ওয়াদুদ,
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মিজানুর রহমান প্রমূখ। এছাড়া জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে কুঠিবাড়িতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বর্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এসময় জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।
সভায় সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান। কুষ্টিয়ায় তার আগমন আমাদের জন্য এক বিশেষ গর্বের বিষয়। যদিও এটা সরকারি সফর। তাই আমরা বিশ্বাস করি এই সফরের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার উন্নয়ন অগ্রগতি বৃদ্ধি পাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেতনা এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ, এই দুইয়ের সমন্বয়েই একটি সুন্দর, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারেক রহমান ভূমিকা রাখবে।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালি জাতির চেতনা, সংস্কৃতি ও মানবতার প্রতীক। তাঁর জন্মবার্ষিকী উদযাপন আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা চাই এই আয়োজন হোক সম্পূর্ণ দলমত নির্বিশেষে একটি সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে কুষ্টিয়াবাসী অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। আমরা আশা করি, তাঁর এই সফর দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং কুষ্টিয়ার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে।
সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর আগমনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও বিকশিত হবে এবং শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ও কুষ্টিয়ার উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পাবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। আমরা চাই, কুষ্টিয়া থেকে একটি ইতিবাচক ও ঐক্যের বার্তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।
এছাড়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এবারের অনুষ্ঠানে বরেণ্য শিল্পীরা অংশ নেবেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
