কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী লাকী খাতুন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে বাদী লাকীর দেবর জহুরুল শেখকে। এরআগে, গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া বাড়াদী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ শেখ (৩০) ওই এলাকার মৃত রবিউল শেখের ছেলে।
তিনি পেশায় ফেরিওয়ালা ছিলেন। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও ছেলে রাফি (৯), মেয়ে রায়শা (৩) ও মা সবুরা খাতুন (৫০) রয়েছেন। গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন। পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, রাশেদ শেখ জীবিকার্জনের জন্য বরিশালে ফেরি করে মশারির ব্যবসা করতেন।
প্রায় ২০ দিনপর সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাড়িতে আসেন। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর স্ত্রী লাকী খাতুন প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাইরে ওয়াশরুমে যান। তখন রাশেদ ঘরের বারান্দায় বসে স্মার্টফোন চালাচ্ছেন। এ সময় হঠাৎ তাঁর ছোট ভাই জহুরুল তাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘাড়, পেটসহ শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করে এবং নিজঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান।
এরপর ওয়াশরুম থেকে এসে রাশেদের স্ত্রী আহত স্বামীকে দেখে চিৎকার চেঁচাচেচি শুরু করেন। পরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত জহুরুল কাজ করেনা। কয়েকবছর ধরে ভবঘুরে বেড়ান এবং মাদকাসক্ত। সেজন্য তাঁর স্ত্রী আলো খাতুন তাঁর দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
জহুরুল তাঁর ভাই, মাসহ প্রতিবেশীদের কাছে বিভিন্ন সময়ে শুধু টাকা ধার চাইতেন। গত রমজানের ঈদেও বড় ভাই ও মায়ের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তাকে টাকা দেননি। মামলার বাদী লাকী খাতুন বলেন, দেবর জহুরুলের সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিলোনা। তবে ও ( জহুরুল) সবসময় টাকা চাইতো। রোজার ঈদেও পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিল। কিন্তু আমার স্বামী টাকা দিছিলো না। হয়তো টাকা না পেয়েই স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জহুরুল।
আমি বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি। যে আমার সন্তানদের এতিম করেছে। আমি তাঁর ফাঁসি চাই। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, রাশেদকে হত্যার অভিযোগে ছোট ভাইকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন ভিকটিমের স্ত্রী। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
