তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত-তবুও স্বপদে বহাল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মন্নান - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত-তবুও স্বপদে বহাল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মন্নান

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও ডা. আবদুল মন্নান বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনসহ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে জারি করা সরকারি নথি অনুযায়ী, ডা. আবদুল মন্নান (আইডি: ১১১১২৭) চট্টগ্রাম হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় আউটসোর্সিং ও খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, ওষুধ কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা প্রদান এবং ই-জিপি টেন্ডার বাতিল করে ম্যানুয়ালি পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েন।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, এসব অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নং-১৩৮/২০২৫) দায়ের করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।

নোটিশে তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগনামা জারির মাত্র সাত দিন আগে, ২২ জুন ২০২৫ তারিখে তিনি কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন।

এরপর থেকে তিনি টানা প্রায় ৯ মাস ২২ দিন ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়া স্বাস্থ্য খাতের সুশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

অভিযুক্ত ডা. আবদুল মন্নান সরকারি নথির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন, বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।” তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

এদিকে, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে নতুন করে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ক্রয় সংক্রান্ত কাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছেমতো বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, তার অধীনস্থ এক ইসিজি টেকনিশিয়ান রাজুকে ওয়ার্ড মাস্টারের দায়িত্ব দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কর্মরত শতাধিক কর্মচারীর থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে এগুলো প্রকাশ করা হবে।