কুষ্টিয়া এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ! - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ!

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ধারাবাহিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমদকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও অভিযোগ উঠেছে তিনি এখনও পূর্বের কর্মস্থলেই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্মারক নং ৪৬.০২.০০০০.০০১.৯৯.১৮৭.১৮.২৬১৭, তারিখ ৩০ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি করে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দিয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ প্রদান করা হয়।

তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তিনি এখনও কুষ্টিয়া অফিসে সক্রিয় রয়েছেন। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে বদলি আদেশটি কি গোপনে কোনোভাবে বাতিল করা হয়েছে? এদিকে, এলজিইডির অভ্যন্তরে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম এবং মোছা. রত্নার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠন, ঘুষ বাণিজ্য এবং অনিয়মের মাধ্যমে অফিস নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ করা কিছু প্রতিষ্ঠানের বিল দ্রুত পরিশোধ করা হলেও, মানসম্মত কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল বিভিন্ন অজুহাতে আটকে রাখা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, ৯ থেকে ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং রাতের আঁধারে বিল পরিশোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, যারা গণমাধ্যমে তথ্য দিয়েছেন বা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাজের সাইটে গিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এমডি আব্দুস সামাদ খান’ অভিযোগ করে জানায়, তারা যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করলেও তাদের বিল আটকে রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিল পরিশোধের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শরিফ হোসেন লিখিতভাবে বিল পরিশোধ না করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফলে ডব্লিউবিএম ও এজিং প্রকল্পের রিক্যাস্ট বিল দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এছাড়া সান্দেয়ারা টু পান্টি সড়ক এবং নন্দলালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর, সঠিকভাবে কাজ করা ঠিকাদাররাই উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এলজিইডির অনিয়মের প্রতিবাদ এবং গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কুষ্টিয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহাম্মেদ এ বিষয়ে বলেন, গত মাসে আমার স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছিল। সেটি আবার প্রত্যাহার করা হয়েছে।