বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার চৌড়হাসে এলাকায় অবস্থিত রহমান ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অবৈধভাবে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ ওঠে। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাম্পে সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন উপেক্ষা করে অটোভ্যান ও অটোরিকশায় করে আনা বড় বড় ড্রাম ও পাত্রে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রতিটি ভ্যানে দুটি করে ২০০ লিটারের ড্রাম এবং কিছু ভ্যানে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ধারণক্ষমতার একাধিক তেলের পাত্র দেখা যায়। ঘটনাস্থলে অন্তত ১০ থেকে ১২টি ভ্যান অবস্থান করছিল। সরজমিনে উপস্থিত কয়েকজন ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তারা দূরবর্তী এলাকা থেকে এসে নিয়মিত রাতে তেল সংগ্রহ করে বিভিন্ন ইটভাটা ও দোকানে সরবরাহ করেন। একজন চালক বলেন, আমরা ভাড়ায় কাজ করি। প্রতিদিন রাতে এখানে এসে তেল নিয়ে যাই।
এটা বৈধ কি না, সে বিষয়ে আমাদের ধারণা নেই। এদিকে আরেক চালক জানান, তিনি হরিপুর থেকে এসেছেন এবং তেল ইটভাটায় সরবরাহ করা হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে রাজি হননি। পাম্পের এক কর্মচারী এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দায় এড়িয়ে বলেন, আমরা কিছু জানি না। মজমপুর গেটে মোজাফফর পাম্পে গিয়ে কথা বলেন, ওটাই আমাদের মূল পাম্প।
রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারও একই সুরে বলেন, মোজাফফর পাম্প থেকে যে নির্দেশনা আসে আমরা সেটাই অনুসরণ করি। তেল কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে এ বিষয়ে জানতে হলে মূল পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। অন্যদিকে পাম্প মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. মামুন সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনারা এসে অযথা ঝামেলা করছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের তেল দিয়ে আসছি।
প্রশাসনের গাড়িসহ বিভিন্ন সরকারি কাজেও এখান থেকে তেল সরবরাহ করা হয়, তার সব কাগজপত্র রয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা এবং সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার জ্বালানি তেল মজুদ ও অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার এই ফিলিং স্টেশন থেকে খোলা বাজারে ড্রামভর্তি তেল বিক্রির অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবগত করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
