অবৈধ মদের কারণে সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়ছে: কুতুব উদ্দিন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

অবৈধ মদের কারণে সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়ছে: কুতুব উদ্দিন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে এক শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিথানল বিষক্রিয়া ও অ্যালকোহল সম্পর্কিত বিষক্রিয়া মোকাবেলায়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। গতকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কনফারেন্স রুমে শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম। এতে ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রফেসর অনিরুদ্ধ ঘোষ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ ফজলে রাব্বি চৌধুরী, লন্ডনের এডিনবার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডাঃ জেনেথ পারকিম।

অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, উপ মহাদেশের বিখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন এস আর খান, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবন মুখার্জি, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ আনোয়ারুল কবীর, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. আকরামুজ্জামান মিন্টু প্রমূখ। এ কর্মশালায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

এসময় অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যক্ষ ডাঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য মিথানল বিষক্রিয়ার দ্রুত শনাক্তকরণ, জরুরি চিকিৎসা প্রদান এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা। তিনি বলেন, আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলা গুলোতে, অনেকে চোলাইমদ সেবন করে থাকে।  এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব এবং কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি অবগত করেন, বিশেষ করে সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চোলাই মদ ব্যবহার হয়। প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এগুলো সেবন করা যাবে না। যারা এগুলো সেবন করে থাকে তাদের স্বাস্থ্য ঝুকি থাকে, নির্ঘাত মৃত্যুও হতে পারে। তিনি আরো বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে মিথানল ও অ্যালকোহলজনিত বিষক্রিয়া প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, মিথানল বিষক্রিয়া ও অ্যালকোহল সম্পর্কিত বিষক্রিয়া মোকাবেলা, নিঃসন্দেহে আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেজাল ও অবৈধ অ্যালকোহল সেবনের ফলে যে মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটছে, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তিনি আরো বলেন, মিথানল বিষক্রিয়া শুধু একটি চিকিৎসা বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও বটে। অনেক ক্ষেত্রে অসচেতনতা, দারিদ্র্য এবং সহজলভ্য অবৈধ মদের কারণে সাধারণ মানুষ এ ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত, প্রথমত, জনসচেতনতা বৃদ্ধি। দ্বিতীয়ত, অবৈধ অ্যালকোহল উৎপাদন ও বিপণনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং তৃতীয়ত, হাসপাতালগুলোতে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এছাড়া অন্য বক্তারা বলেন, অবৈধ বা ভেজাল অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে মিথানল বিষক্রিয়ার ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগীর মৃত্যু বা স্থায়ী অন্ধত্বের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ৩ কারণে আক্রান্তদের সঠিক তথ্য ওঠে আসছে না, ঘটছে মৃত্যু। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলেই মিথানল বিষক্রিয়া প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দেয়। কর্মশালায় দ্রুত শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা এবং জনসচেতনতার বিষয়ে তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা। বক্তারা আরো বলেন, সামাজিক লজ্জা, আইনি বিধিনিষেধ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ঘাটতির কারণে সঠিকভাবে উঠে আসছে না ভেজাল মদ ও মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের সংখ্যা। ফলে অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন। কিন্তু সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিলে এই রোগীরা সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারতেন।

‘মিথানল বিষক্রিয়া ও অ্যালকোহল-সম্পর্কিত বিষক্রিয়া মোকাবেলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে। বিশেষজ্ঞরা জানান, মিথানল বিষক্রিয়ার লক্ষণ, যেমন, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া, মাথা ঘোরা, বমি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরুর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি, জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় ওষুধ, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এদিকে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে বিষক্রিয়া সংক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।