পোড়াদহে রেলওয়ের জলাশয় ভরাট - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পোড়াদহে রেলওয়ের জলাশয় ভরাট 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৬, ২০২৬

দখলচেষ্টার অভিযোগে মামলা

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন ময়নাগাড়ী রেলগেট এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন প্রায় ১২ একর জলাশয় ও নিচু জমি অবৈধভাবে দখল করে বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একাধিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী একটি চক্র এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় জমি পুনরুদ্ধারে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের নথি অনুযায়ী, ওই এলাকায় তাদের প্রায় ১২ দশমিক ৪২ একর জমি রয়েছে, যার মধ্যে ১১ দশমিক ২৭ একর নিয়ে বর্তমানে বিরোধ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আব্দুস সামাদ, মাসুদ, লিটন, জসিমসহ ১০থেকে১২ জনের একটি চক্র কোনো অনুমতি ছাড়াই জলাশয়টি বালু দিয়ে ভরাট করছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) রাজশাহীর মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বাদী হয়ে মিরপুর সিভিল জজ আদালতে একটি স্বত্ব ঘোষণা মামলা করেছেন।

মামলায় মো. আব্দুস সালাম সুজন ও হাজী মো. আব্দুস সাত্তারসহ ১৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, বিবাদীরা ভুয়া ও ত্রুটিপূর্ণ রেকর্ডের অজুহাতে রেলওয়ের দীর্ঘদিনের মালিকানা অস্বীকার করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, জমিটি ১৯২১-২২ সাল থেকে তাদের দখলে রয়েছে এবং সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ানে রেলওয়ের মালিকানা লিপিবদ্ধ আছে। তবে অভিযুক্তরা নিজেদের নামে ভুয়া রেকর্ড তৈরি করে মালিকানা দাবি করছে বলে অভিযোগ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। 

জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সম্প্রতি মিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঈশিতা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের একজন আব্দুস সামাদ দাবি করেন, তাঁরা ক্রয়সূত্রে জমির মালিক এবং বৈধভাবে দখলে আছেন। তবে এই দাবি নাকচ করে স্থানীয় ইকবাল শেখ বলেন, ওরা ভুয়া দলিল করে রেলের জমি দখল করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এলাকাবাসী জানায়, জলাশয়টি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো। বালু ভরাটের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং পানির উৎস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। রেকর্ডসংক্রান্ত কিছু জটিলতা থাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরও জানান, রেকর্ড সংশোধনের জন্য এডিসি (রেভিনিউ) আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা জারির প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি শাখা থেকে গত ২৯ মার্চ জারি করা এক জরুরি পত্রে অবিলম্বে বালু ভরাট বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা-পুলিশের সহায়তা নিয়ে দখল ঠেকাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, মামলা চলমান থাকলেও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বালু ভরাটের কাজ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মূল্যবান এই সরকারি সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।