খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার দক্ষিণ মালিকগ্রাম এলাকায় মধ্যরাতে গোরস্থান সংলগ্ন স্থানে এক গৃহবধূর সঙ্গে গোপন সাক্ষাৎ করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন এক অনার্স পড়ুয়া ছাত্র। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ এপ্রিল গভীর রাতে, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ছাত্রের সঙ্গে ওই গৃহবধূর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে নিয়মিত কথোপকথন চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্জন স্থানে দেখা করার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার রাতে গোরস্থান সংলগ্ন এলাকায় ওই ছাত্রের উপস্থিতি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। প্রথমে তাকে গরু চোর সন্দেহে আটক করা হলেও, পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে গৃহবধূর সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারে নিয়মিত কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঘটনাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
এরপর স্থানীয়রা তাকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে গৃহবধূর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সারারাত ধরে উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ছাত্র দাবি করেন, “ফেসবুকে আমাদের পরিচয় হয়। কিছুদিন ধরে কথা হচ্ছিল। সে-ই আমাকে দেখা করতে বলে। আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাকে আটক করা হয়েছে। গৃহবধূ জানান, “আমার ভুল হয়েছে। আমি স্বামীকে না জানিয়ে তাকে ডেকে এনেছিলাম। তবে তার সঙ্গে আমার কোনো খারাপ সম্পর্ক নেই।
গৃহবধূর স্বামী সাংবাদিকদের বলেন, “যদি কোনো খারাপ সম্পর্ক না-ই থাকে, তাহলে রাত ১১টার সময় বাঁশবাগানের মধ্যে তাদের উপস্থিতি কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? বিষয়টি অবশ্যই সন্দেহজনক। প্রতিবেশী মোঃ রফিক বলেন, “রাত সাড়ে ১১টার দিকে জোৎস্না রাতে আমি তাদের দু’জনকে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে দেখি। টর্চলাইট মারতেই মেয়েটি দ্রুত বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ছেলেটি দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আগেও তাকে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখেছি। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে গেলে শুরুতে বাধার সম্মুখীন হন। পরে অভিযুক্ত ছাত্র তার পরিবারকে খবর দিলে তার অভিভাবকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে গভীর রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা হয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়ালেও, সাংবাদিকদের সামনে তা অস্বীকার করা হয়। এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
