কুষ্টিয়া মেডিকেলে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া মেডিকেলে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৪, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া আট মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বরে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এসময় মৃতের পরিবারের চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেন।

তবে গত ২৬ মার্চ ভর্তির সময় থেকেই শিশুটি শঙ্কটাপন্ন ছিল বলে দাবি করেন হাসপাতাল উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম। মৃত শিশু আফরান সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আল আমিনের ছেলে। আল আমিন জানায়, গত ১০ দিন আগে আফরানের ঠান্ডা জ্বর হয়। পরে শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা দিলে ওইদিনই তাকে কুষ্টিয়ার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি তাকে দেখেই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।

তার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আফরানের অবস্থা খুব খারাপ হতে থাকে। কিন্তু হাসপাতালে কোনো  বড় চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে খুব খারাপ অবস্থা হলে চিকিৎসক ও নার্সদের ডেকেও সাড়া পাননি। অবহেলায় আফরান মারা গেল কিছুই করতে পারিনি। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ভোরে হামের উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ভর্তির দিন থেকেই শিশুর অবস্থা খারাপ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা যাননি। তবুও শিশুটির প্রযোজনীয় চিকিৎসা চলছিল। তবে হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের আমরা কেবল মাত্র সন্দেহমূলক রোগী হিসেবেই দেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। প্রকৃত অর্থে নমুনা পরীক্ষা করে রোগ নির্নয়ের কাজটি সময় সাপেক্ষ হওয়ায় রোগী শনাক্তের বিষয়ে আমাদের অনুমান নির্ভরই থাকতে হচ্ছে’।

কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা.শেখ মোহাম্মদ কামাল জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৫০ শয্যার সদর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপতাল এবং ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডা জ্বর,সর্দি, কাশিজনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি আছে ২ হাজার ৪৮৪ শিশু। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষাসহ নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২, মৃত্যু সংখ্যা ২। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৭। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ৮০ জনকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। নমুন পরীক্ষা করে হাম রোগী সনাক্তের বিষয়টি এখনও পর্যন্ত একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলে জানান এই সিভিল সার্জন।