কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনা থমকে যাওয়া অদম মেধাবী কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সেই ওমর ওসমান রাজুর পাশে দাঁড়িয়েছেন আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশ। রাজুর স্বপ্ন পূরণের সারথি হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজুকে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি ও পোশাক প্রদান করেছে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন।
দুপুরে আলাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষা পল্লী পার্কের একটি সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজুর হাতে প্রথম মাসের নগদ পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল লতিফ, ফাউন্ডেশনটির সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন, রাজুর মা প্রমূখ। এছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার টাকা এসেছে রাজুর বিকাশ নম্বরে। অনেকেই ভর্তির টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বলে জানান রাজু।
তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন ও গৃহিণী ফাতেমা খাতুন দম্পতির বড় ছেলে। তাঁর ছোট ভাইয়ের নাম মো. রাফিউল। তিনি একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। রাজু ২০২৫ – ২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরপর কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারে এক শিক্ষককের সহযোগীতায় বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ করেন। এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির গুচ্ছ পরীক্ষায় ৯০ তম, জাহাঙ্গীরনগরে ২৫১ তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩ তম মেধাস্থান অর্জন করেছেন রাজু।
তবে সংসারের অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় অর্থাভাবে রাজুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়। এরপর বিষয়টি ফেসবুকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেন এগিয়ে আসেন। রাজু মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘ সংসারে ইনকামের লোক নাই। কাপড় – চোপর, বই – খাতা, খাতি দিতি পারিনে। কত করে কয়ছি তুই পড়িসনে। ও কয় তাউ পড়বই।
এসব কথা খবরে উঠে গেলি অনেকই ফোন দিচ্ছে। স্বপ্ন ওয়ালারা সাড়ে তিন লাখ টাহার চেক দিছে। আলাউদ্দিন স্যার ফোন দিছে। এহন খুব খুশি। সগলে আমার রাজুর জন্যি দোয়া করবেন।’ দুপুরে আলাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষা পল্লী পার্কে কথা হয় রাজুর সঙ্গে তিনি বলেন, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এরপর আমাকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রচার হলে অসংখ্য মানুষ ফোনে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন থেকে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকার বৃত্তি দিয়েছে। এখন আর টাকার সমস্যা নেই। পড়াশোনা করে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বেঁচে রইল। সকলের ভালোবাসা ও সহযোগীতায় মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ আমি।’ তাঁর ভাষ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হতে যাব ৫ এপ্রিল। পড়াশোনা করে ডিসি অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবো। ভবিষ্যতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবো।
আলাউদ্দিন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, আবারো গণমাধ্যমের জয় হয়েছে। গণমাধ্যমের কল্যাণে সংবাদ পেয়ে ফাউন্ডেশনের পক্ষ্য থেকে রাজুকে শিক্ষাকালীন মাসিক পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রথম মাসের টাকা রাজুর হাতে নগদ তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী মাস গুলোর টাকা রাজুর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এছাড়াও রাজুকে দুই সেট পোশাক দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় রাজুর বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তাঁর মা অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে দুই সন্তানসহ তিনজনের সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন। রাজু উপজেলার জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ -৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৯২ পয়েন্ট পেয়ে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হন।
