দৌলতপুরে যক্ষ্মা ছাড়া সব টিকার মজুত শেষ, এক বছর ধরে নেই হামের টিকা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে যক্ষ্মা ছাড়া সব টিকার মজুত শেষ, এক বছর ধরে নেই হামের টিকা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৩, ২০২৬

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জীবন রক্ষাকারী টিকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যক্ষ্মা (টিবি) প্রতিরোধে ব্যবহৃত বিসিজি টিকা ছাড়া প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুত ফুরিয়ে গেছে। বিশেষ করে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত এমআর টিকা এক বছর ধরে সরবরাহ না থাকায় উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দৌলতপুরে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তা বাড়ছে।

এখন পর্যন্ত ১১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনের নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ৯ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে দুই শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সারা দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, নির্ধারিত ১০টি রোগের টিকার মধ্যে বর্তমানে দৌলতপুরে বিসিজি ছাড়া বাকি সব টিকার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এমনকি বিসিজি টিকাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ মার্চ থেকে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত এমআর টিকার কোনো সরবরাহ নেই। এ ছাড়া পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি এবং নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া প্রতিরোধী টিকার (পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি ও ওপিভি) মজুত চলতি বছরের মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গেছে। সীমান্তবর্তী এই বৃহৎ উপজেলায় প্রায় ৬ লাখ মানুষের বসবাস।

প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন শিশুর জন্ম হলেও জন্মের পরপরই প্রয়োজনীয় টিকা না পাওয়ায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রতি মাসে এখানে ৩০০ থেকে ৪০০ শিশু টিকা গ্রহণ করে থাকে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও সন্তানদের টিকা দিতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকেরা। অনেক সচেতন অভিভাবক বাধ্য হয়ে বেসরকারি পর্যায়ে টিকা খুঁজছেন, কিন্তু সেখানেও সহজে তা পাওয়া যাচ্ছে না।

বৈরাগীর চর এলাকার নবজাতকের মা রেখা খাতুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শিশুর জন্য দুটি টিকা পেয়েছি, বাকি টিকা এলে জানানো হবে বলে স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন।’ হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আট মাস বয়সী শিশু আমেনা খাতুনের মা সারমিন খাতুন বলেন, ‘হামের টিকা দেওয়ার আগেই মেয়ের শরীরে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। কিছু টিকা পেলেও এখন আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

তারাগুনিয়া এলাকার আরেক নবজাতকের মা স্বর্ণালী খাতুন বলেন, ‘শিশুর জন্মের পর সরকারিভাবে যে টিকাগুলো দেওয়ার কথা, সেগুলোর কোনোটিই মজুত নেই শুনে আমরা হতাশ। এখন সন্তানকে কীভাবে সুরক্ষা দেব বুঝতে পারছি না।’ এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টিকার এই ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে হামসহ অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।