খোকসায় ‘কালো সোনায়’ সম্ভাবনায় হাতছানি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খোকসায় ‘কালো সোনায়’ সম্ভাবনায় হাতছানি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১৪, ২০২৬

পুলক সরকার ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজের বীজ ক্ষেতের সাদা ফুলের গুচ্ছ ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে গোলাকার বীজে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়, এই বীজই তাদের কাছে “কালো সোনা”। ভালো ফলন ও লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় ৯ থেকে ১০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে। উপজেলার আমবাড়িয়া, মোড়াগাছা, শোমসপুর, মালিগ্রাম, চরবিহাড়ীয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ বীজের চাষ হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে চাষের পরিমাণও বেড়েছে। কৃষকেরা জানান, পেঁয়াজ বীজ চাষে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। মান ও জাতভেদে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বীজের দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। খোকসাতে বর্তমানে সুপার কিং, লাল তীর, হাইব্রিড, হিমাশকেল ও সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করছেন কৃষকেরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে পেঁয়াজ বীজ চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মোকাররম হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে আমি ১৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে লাল তীর কিং হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের বীজ কদম করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। চরবিহাড়ীয়া গ্রামের সফল কৃষক আকাশ হোসেন জানান, তিনি এবার ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, “অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁয়াজ বীজ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন। আগে অনেকেই শুধু নিজের প্রয়োজনের জন্য করতেন, এখন তা বড় আকারে হচ্ছে।” কৃষকদের উৎসাহিত করতে নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে পেঁয়াজ ফুলে হাত দিয়ে পরাগায়ণ করার কৌশল শেখানো হচ্ছে। খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, “চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ১১ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা হতে পারে। কৃষিতে সম্পৃক্ততা বাড়লে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।” কৃষি বিভাগ ও কৃষকেরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে খোকসাতে।