সবুজ আলী, খোকসা ॥ জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফুলজাতীয় ফসলের পরাগায়নে সহায়ক পতঙ্গের অভাব দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পেঁয়াজের কদম (বীজের ফুল) সহ বিভিন্ন ফুলজাতীয় ফসলে। ফলে কৃষকদের কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করতে গিয়ে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলের ফলনও কমে যাচ্ছে। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় দিন দিন পেঁয়াজের আবাদ বাড়ছে। প্রতিবছর শীতকালীন পেঁয়াজের বীজতলা তৈরির সময় বীজের কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়। সুখ সাগর, হাইব্রিড ও কিং জাতের পেঁয়াজের বীজ প্রতি কেজি ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে কিনতে হয় কৃষকদের।
বীজ সংকট মোকাবিলায় বড় চাষিরা নিজেরাই উন্নত জাতের শীতকালীন পেঁয়াজের কদম আবাদ করে বীজ উৎপাদন করছেন। সাধারণত শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ বিঘা প্রতি প্রায় ১৮ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়। কৃষকদের মতে, নিজের উৎপাদিত বীজের পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের কদমে পরাগায়নের সময় মৌমাছি ও অন্যান্য উপকারী পতঙ্গ মাঠে দেখা যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে হাত দিয়ে কৃত্রিম পদ্ধতিতে পরাগায়ন করছেন। এতে বীজের মান ও ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। কৃষকদের দাবি, জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মৌমাছিসহ পরাগায়নে সহায়ক পতঙ্গ কমে গেছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার শিমুলিয়া, একতারপুর, জয়ন্তী হাজরা, আমবাড়িয়া ও গোপগ্রাম ইউনিয়নে প্রায় ১৭৫ বিঘা জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজের কদম (বীজ) আবাদ হয়েছে। বীজের ফলন ভালো হলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমিতে আবাদ করার মতো বীজ উৎপাদন সম্ভব হবে।
সোমবার দুপুরে শিমুলিয়া ইউনিয়নের মালিগ্রাম দক্ষিণ পাড়া মাঠে কৃষক জিহাদ আলী শেখের কদমের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি এক বিঘা জমিতে হাইব্রিড ও কিং জাতের পেঁয়াজের কদম আবাদ করেছেন। ফাল্গুন মাসেও মাঠে একটি মৌমাছির দেখা নেই। তাই দুইজন শ্রমিক নিয়ে কৃত্রিম পদ্ধতিতে পেঁয়াজের কদমে পরাগায়ন করছিলেন।
কৃষক জিহাদ আলী শেখ বলেন, আগে মাঠে ফসলের উপকারী পতঙ্গ ছিল। এখন অতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রে করার কারণে এসব পতঙ্গ মারা যাচ্ছে। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, মাটি পরীক্ষা ছাড়াই কৃষকরা ইচ্ছামতো সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে ফুলজাতীয় ফসলের জন্য উপকারী পতঙ্গ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক পরাগায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে ফুলজাতীয় ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে।
