শুক্রবার, ৩১ই জুলাই ২০২৬, ১৬শে শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ই জুলাই ২০২৬, ১৬শে শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও জয়ের নিয়ন্ত্রণে অবৈধ বালুর সাম্রাজ্য!

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৩:৭ এএম

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও জয়ের নিয়ন্ত্রণে অবৈধ বালুর সাম্রাজ্য!

নিজ দপ্তরেই কর্মকর্তার টেন্ডার বাণিজ্য 

 

বিশেষ প্রতিনিধি।। সরকারি চাকরির সুনির্দিষ্ট বিধিমালা, আচরণগত শৃঙ্খলা ও চরম নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে নিজ দপ্তরের আওতাধীন কোটি কোটি টাকার বালু অপসারণ ও উত্তোলন কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এক অভূতপূর্ব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন সার্কেলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/প্রাক্কলনিক জিয়াউল হক জয়ের বিরুদ্ধে। সরকারি পদে বহাল থেকেই ছদ্মবেশে ঠিকাদারি পরিচালনা, অনলাইন টেন্ডার প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর গলিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়া, বড় ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক ছত্রছায়া দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।

 

দীর্ঘ অনুসন্ধানে পাওয়া গোপনে ধারণকৃত একাধিক ভিডিও ফুটেজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের দেওয়া তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে—কাগজে-কলমে ‘বসির এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সামনে রাখা হলেও মূলত এই পুরো বালু সাম্রাজ্যের প্রকৃত ‘হর্তাকর্তা’ ও নিয়ন্ত্রক জিয়াউল হক জয় নিজেই।

 

সূত্রে জানা যায়, ডায়েট-২ প্রকল্পের অধীনে জুগিয়া এলাকার চারুলিয়া মৌজায় নদী ড্রেসিং করে নদীগর্ভ থেকে উত্তোলিত বালু অপসারণের কাজ পায় ‘বসির এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। দৃশ্যত এই প্রক্রিয়াটি ওটিএম (OTM) ও এলটিএম (LTM) পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ গোপনে ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, অনুসন্ধানে মিলেছে ভিন্ন চিত্র। অনলাইন দরপত্রের অন্তরালে পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্য কারিগর ছিলেন স্বয়ং প্রকৌশলী জয়।

 

অফিসিয়াল নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসির এন্টারপ্রাইজের নামে দরপত্র জমাদান থেকে শুরু করে অফিশিয়াল কোটেশন প্রস্তুত করা, ঘাট ম্যানেজ করা এবং সার্বিক প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন জিয়াউল হক জয়।

 

কাগজে-কলমে বসির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বসির হলেও, এই মেগা প্রকল্পে বসিরের মূল শেয়ার মাত্র ১০ শতাংশ। বাকি ৯০ শতাংশ শেয়ারের বড় একটি অংশ (৩০ শতাংশ) সরাসরি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন এই পাউবো কর্মকর্তা। বাকি শেয়ার বাইরের কোন কোন ব্যবসায়ীর কাছে কত টাকা মূল্যে বিক্রি করা হবে, তার একচ্ছত্র সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি নিজেই।

 

প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক গোপন ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পাউবো কর্মকর্তা জিয়াউল হক জয় তার গোপন ব্যবসায়ী অংশীদারদের সঙ্গে অর্থ বণ্টন, শেয়ার হিসাব ও ঘাট পরিচালনা নিয়ে কথোপকথন করছেন। তিনি বলছেন, “তারা (যার নামে টেন্ডার হয়েছে সে এবং তার অন্যতম সহযোগী) আমাকে বলেছে—আপনার যে অংশটুকু আছে আপনি সেটা নেন। এটুকু কম দিচ্ছি নাকি দেখেন, বাকিগুলো নিয়ে আপনার দেখার দরকার নেই। আমি মূলত কাজটা তখন করেছি যখন এটা চলমান ছিল। আজকে যে ঝামেলায় জড়াবো সেটা হওয়ার কথা ছিল না। এই ঘাট ম্যানেজ করা, খাটের টাকা কোটেশন দেওয়া সহ সকল প্রক্রিয়া তিনি নিজে সম্পন্ন করেছেন বলেও স্বীকার করেছেন। তিনি না থাকলে এই ঘাট পাওয়ার ক্ষমতা বসির এন্টারপ্রাইজের ছিল না।

 

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডায়েট-২ প্রকল্পের ১২ শতাংশ শেয়ার বিক্রির নাম করে দুজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা আদায় করেন প্রকৌশলী জয়। কাজের অফিশিয়াল কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পাওয়ার আগেই জয়ের দফায় দফায় তাগাদায় নগদে প্রদান করা হয় ৮১ লক্ষ টাকা। এর আগে ৫০ লক্ষ টাকা সরাসরি লেনদেন করা হয় জয়ের আপন বড় ভাইয়ের নিজ নামীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে!

 

সরকারি কর্মকর্তার আত্মীয়ের অ্যাকাউন্টে ঠিকাদারি ও ইজারা সংক্রান্ত এতো বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের ঘটনাটি সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করার পাশাপাশি অর্থ পাচার ও ঘুস-দুর্নীতির এক চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

 

সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দরপত্রের নির্ধারিত পুরো টাকা পরিশোধ করার আগেই বসির এন্টারপ্রাইজের আড়ালে জিয়াউল হক জয়ের চক্রটি নদীগর্ভ থেকে ড্রেজিং করা বালু অপসারণ ও তা বাজারে বিক্রি করা শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয় জেলা প্রশাসনের নজরে আসলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের অভিযানের পরও এখন পর্যন্ত দরপত্রের সম্পূর্ণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও থেমে নেই জয়ের সিন্ডিকেট। দিনের আলোয় কাজ বন্ধের ভান করলেও রাতের আঁধারে কোটি কোটি টাকার সরকারি বালু অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চরম বিপাকে পড়েন জয়ের মাধ্যমে শেয়ার কেনা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা লভ্যাংশ দূরে থাক, নিজেদের মূলধন ফেরত চাইতে গেলেই তৈরি হয় জটিলতা ও নানা হুমকি-ধামকি। বার বার তাগাদা দেওয়ার পর জয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনো পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকা জয়ের সিন্ডিকেটের কাছে আটকে রয়েছে। তাছাড়া কাজ চললেও তাদেরকে কোন লভ্যাংশ দেওয়া হয়না। 

 

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, দরপত্র বাগানোর আগে ও টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে জিয়াউল হক জয় তাদের সাথে কুষ্টিয়া শহরের একাধিক পরিচিত স্থানে বৈঠক করেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বর, জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর, শহরের ঝাউতলা গলি এবং এমনকি ঢাকায় এক অংশীদারের বাসায় গিয়েও সরাসরি গোপন বৈঠক সম্পন্ন করেন তিনি।

 

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু ডায়েট-২ প্রকল্পই নয়, পার্শ্ববর্তী তালবাড়িয়া এলাকার সম্পূর্ণ অবৈধ বালুর ঘাটেও এই প্রকৌশলীর ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা নদীগর্ভের বালু ইজারা ও বালুরঘাট পরিচালনা সংক্রান্ত সমস্ত কাজের একক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিজের হাতে তুলে নেন।

 

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে একাধিকবার এসব অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করলেও প্রতিবারই অভিযানের ফলাফল শূন্যে কোঠায় ঠেকেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অভিযানের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি গাড়ি বা টিম বের হওয়ার সাথে সাথেই সেই তথ্য জিয়াউল হক জয়ের গোপন মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলাফলস্বরূপ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অভিযানকারী দল পৌঁছানোর আগেই তড়িঘড়ি করে ভেকু, ড্রেজার, বালু বহনের ট্রাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে মূল অপরাধীরা অধরাই থেকে যায় এবং প্রশাসনের অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

 

এসব বিস্ফোরক তথ্যের বিষয়ে সরাসরি মুখোমুখি অনুসন্ধানে কথা বলেন অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগকারীদের সাথে বৈঠক, ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে লেনদেন এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের কথা স্বীকার করলেও বালু ব্যবসায় নিজের সরাসরি মালিকানার কথা অস্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, “পারিবারিক একটি জটিল সংকটের সময় বসির ও তার সহযোগী মোকলেস আমাকে সহযোগিতা করেছিল। সেই সুবাদে তাদের সাথে আমার একটি ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা কাজটা পাওয়ার পর তাদের বড় অংকের ইনভেস্টরের দরকার হয়। তারা আমার পরিচিত হওয়ায় আমি কয়েকজন ইনভেস্টর খুঁজে দিই। ইনভেস্টররা আমার পূর্বপরিচিত হওয়ায় এবং তাদের টাকার নিশ্চয়তা দিতেই ৫০ লক্ষ টাকা আমার আপন বড় ভাইয়ের নিজ নামীয় অ্যাকাউন্টে লেনদেন করা হয়েছিল। আমি ঢাকায় একটি ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলাম, তখন বসির ও মোকলেস ঢাকায় থাকায় সাজু নামের এক ইনভেস্টরের বাসায় বৈঠক হয়, তবে সেখানে ব্যবসায়ীক বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি। শহরের বিভিন্ন স্থানে ইনভেস্টরদের সাথে আমি বসিরদের উপকার করতেই মিটিং করেছি। ভিডিওতে যে অংশীদারত্বের কথা এসেছে, তা তৎকালীন পরিস্থিতির চাপে পড়ে আমাকে বলতে হয়েছিল; বাস্তবে সেখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত শেয়ার নেই।”

 

একজন প্রকৌশলীর সরকারি বিধিমালা ভেঙে সরাসরি ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া, কোটি টাকার অর্থ লেনদেন এবং প্রশাসনিক অভিযানের তথ্য আগাম ফাঁস করে দেওয়ার মতো আশঙ্কাজনক বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, তিনি মিটিংয়ে আছেন। একটু পর কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। 

 

সরকারি পদে থেকে নিজ দপ্তরেই কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধ ঘাট পরিচালনা এবং ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সন্দেহজনক কোটি টাকার লেনদেনের এই মহোৎসবের পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আর কোন্ কোন্ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত, তা নিয়ে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে কুষ্টিয়াজুড়ে।

 

উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জয়ের চাকরি জীবনের আনুপূর্বিক বৃত্তান্ত, চাকরির আড়ালে গড়ে তোলা কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়, বেনামে পরিচালিত অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার ও বিভাগীয় ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে পরবর্তী পর্বে সংবাদ প্রকাশ করা হবে।

মন্তব্য

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.