সাবেক এমপি’র স্বাক্ষর জাল করে ৫ কোটির অধিক টাকা উত্তোলন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সাবেক এমপি’র স্বাক্ষর জাল করে ৫ কোটির অধিক টাকা উত্তোলন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৩
সাবেক এমপি'র স্বাক্ষর জাল করে ৫ কোটির অধিক টাকা উত্তোলন

কুষ্টিয়ার সাবেক এমপি’র স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে ৫ কোটির অধিক টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে রাখা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সবশেষ বিষয়টি জনসম্মুখে উঠে এসেছে।

সাবেক এমপি’র স্বাক্ষর জাল করে ৫ কোটির অধিক টাকা উত্তোলন

সাবেক এমপি'র স্বাক্ষর জাল করে ৫ কোটির অধিক টাকা উত্তোলন

সাবেক এমপি’র স্বাক্ষর জাল করে ৫ কোটির অধিক টাকা উত্তোলন

সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী ইসলামিয়া কলেজের তৎকালীন সভাপতি ও সাংসদ কে.এইচ. রশীদুজ্জামান দুদু’র স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে ৫ কোটি ৭ লক্ষ ৭৯ হাজার ৩শত ২৩ টাকা উত্তোলন করা হয়। রশীদুজ্জামান দুদু অসুস্থ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১৪-০৩-২০১০ ইং তারিখ থেকে ১২-০১-২০১৩ ইং তারিখ পর্যন্ত এই টাকাগুলো উত্তোলন করা হয়। এটিএম রুহুল আজম ওরফে ফ্রিডম আজম নামের এক ব্যক্তি সাবেক এমপি’র স্বাক্ষর জাল করে টাকাগুলো উত্তোলন করে হাতিয়ে নেন।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

কলেজ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ১২ তারিখের ০৭(খু-১৪৪) জা:বি:/ক: প:/৩২৭ নং স্বারকের স্বাক্ষরিত পত্রে তৎকালীন সংসদ সদস্য কে.এইচ. রশীদুজ্জামানকে ইসলামিয়া কলেজের সভাপতি করে ৩ বছরের জন্য কমিটি অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দায়িত্বপ্রাপ্তির কয়েকদিন পর সভাপতি দুদু গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর চলে যান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কলেজের বিদ্যুৎসাহী সদস্য এটিএম রুহুল আজম ওরফে ফ্রিডম আজম এমপি’র নামে প্যাড তৈরি করেন এবং তার স্বাক্ষর জাল করে নিজেকে সভাপতির দায়িত্বে আসীন করেন। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের যোগসাজশে কোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য সহ বিভিন্ন বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

বেশ ভালো ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন এটিএম রুহুল আজম। লাগাম টেনে ধরে ২৭-০৮-২০২৩ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভা। ঐ সভায় সংসদ সদস্য কর্তৃক অর্পিত দায়িত্বের বিষয়টি নিয়ে তার স্ত্রীর সহিত মুঠোফোনে লাউডস্পিকারে কথা বলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন। সেসময় সংসদ সদস্যর স্ত্রী জানান যে, এমপি সাহেব দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে কোন কথা বা লেখাপড়া করতে পারেন না। এমপি সাহেব এর স্বাক্ষর জাল করে এটিএম রুহুল আজম জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ বানিজ্যসহ কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন।

তিনি তদন্তের মাধ্যমে এটিএম রুহুল আজমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। সেই সভায় এটিএম রুহুল আজম নিজেও উপস্থিত ছিলেন। কথা শুনে তিনি চুপ হয়ে যান। সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে ফ্রিডম আজম কোনদিন ইসলামিয়া কলেজের কোন সদস্য হতে পারবেন না।

তবে এই বিষয়ে এটিএম রুহুল আজম ওরফে ফ্রিডম আজমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাটি বেশ কয়েক বছর আগের। ঐ সময় আজম সাহেব উপযুক্ত কাগজপত্র না দেখানোর কারণে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সাহেব কোন কাজের অনুমোদন দেননি। এখন কাগজপত্র ঘাটতে গিয়ে সব বেরিয়ে আসছে। আর কেউ সভাপতি হতে গেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি লাগে। তৎকালীন অনুমোদিত সভাপতি ছিলেন রশীদুজ্জামান দুদু। আজম সাহেব তার পক্সি দিতেন যা কোনভাবেই বিধিসম্মত নয়। এতদিন এসব ঘটনাগুলো ধামাচাপা ছিল। বিষয়গুলো নিয়ে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বর্তমান সভাপতি শামসুর রহমান বাবু বলেন, সে সময় বেশ কিছু অনিয়ম হয়েছে। আর আজমের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দুদকের একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলার সাথে এই বিষয়টিও যুক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে দুদকের সাথে কথা হয়েছে। তাছাড়া কলেজের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া আদালতে দুর্নীতি সহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: