দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ উদ্ধার করা আর্টিলারি শেলটি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট নিরাপদ স্থানে নিয়ে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ছাড়াই নিষ্ক্রিয় করছে। ১৫ বছর আগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী গ্রামের সাবেক সেনা কর্মকর্তা আসমত উল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় পাখি খাতুনের। এটা ছিল আসমত আলীর ২য় বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর ঘরে একটি লোহার বস্তু দেখতে পায় পাখি খাতুন। স্বামীর মৃত্যুর পর সেটিকে বিক্রির কথা ভাবেন পাখি। কিন্তু লোক না পাওয়ায় বিক্রি করা হচ্ছিল না। গত সপ্তাহে বাড়ির ওপর আসেন এক ভাঙারি ব্যবসায়ী। তার কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দেন লোহার ওই বস্তুটি। ওজন হয় ১৭ কেজি। কিন্তু ওই বস্তুটি যে বোমা জাতীয় কিছু, সেটা চিনতে পেরে ভয় পেয়ে গত পরশু বস্তুটি আবার পাখী খাতুনকে ফিরিয়ে দিয়ে যান ওই ভাঙারি ব্যবসায়ী।
এরপর ভাঙারির ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে ছড়িয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খবর পায় দৌলতপুর থানা পুলিশ। তারা এসে বস্তুটি দেখে খবর দেন সেনা সদস্যদের। খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী গ্রামের সর্দারপাড়া এলাকায় আসে সেনা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। তারা জানায়, এটি একটি পুরোনো অবিস্ফোরিত সেল। সেটা অনেক শক্তিশালী। পরে অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেল উদ্ধার করে নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাবাহিনীর ৩ ইঞ্জিনিয়ার ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিম।
যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে আগত ১৭ সদস্যের একটি বিশেষায়িত সেনা দল ক্যাপ্টেন রিফাতের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দৌলতপুর সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মানসুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। উদ্ধারকৃত মর্টার শেলটির উচ্চতা আনুমানিক ২৪ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৮ কেজি বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি ১৯৭১ সালের সময়কার বলে অনুমান করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দৌলতখালী গ্রামের আর্টিলারি ডিভিশনের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা (মৃত) আসমত উল্লাহর বসতবাড়ি থেকে আর্টিলারি শেলটি উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মৃত আসমত উল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রী পাখি খাতুন জানান, আমার বিয়ের বয়স প্রায় ১৫ বছর। আমি এখানে আসার পর থেকেই এই বস্তুটি ঘরে পড়ে থাকতে দেখেছি। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর একসময় এটিকে ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে ৩০ টাকা দরে ১৭ কেজি ওজন হিসেবে বিক্রি করি। পরে ভাঙারি ব্যবসায়ী এটি বিপজ্জনক মনে করে আবার আমাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়। এরপর বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে গত মঙ্গলবার স্থানীয় গ্রাম পুলিশকে জানাই। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ময়নাল হোসেন বলেন, মঙ্গলবার বিষয়টি জানার পরপরই আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, উদ্ধার করা আর্টিলারি শেলটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মাসুদ জানান, উদ্ধার করা আর্টিলারি শেলটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে অবহিত করা হয়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদভাবে শেলটি নিষ্ক্রিয় করে। শুক্রবার দুপুরে যশোর সেনানিবাসের সেনাবাহিনীর ৩ ইঞ্জিনিয়ার ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আর্টিলারি শেলটি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করে। অভিযানে বোম ডিসপোজাল টিমের নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন রিফাত। এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আর্টিলারি শেলটি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট নিরাপদ স্থানে নিয়ে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নিষ্ক্রিয় করেছে।
