দৌলতপুর হেম আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো সাধুসঙ্গ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুর হেম আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো সাধুসঙ্গ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১৩, ২০২৩

‘আর কি বস্ব এমন সাধ বাজারে, না জানি কোন সময় কোন দশা ঘটে আমারে’ চরণ পাই যেন কালে কালে ফেলনা ওতুর অধম বলে’ লালনের এই মর্মবানীকে প্রতিপাদ্য করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন প্রাগপুর হেম আশ্রমে রওশনারা ও রশিদা ফকিরাণীর স্মৃতি বার্ষিকী স্মরণে ৪৬তম সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দৌলতপুর হেম আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো সাধুসঙ্গ

দৌলতপুর হেম আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো সাধুসঙ্গ

দৌলতপুর হেম আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো সাধুসঙ্গ

আত্মশুদ্ধির ধারাবাহিকতায় জ্ঞানযোগ আর গুরু কর্মের মধ্যদিয়ে শুক্রবার বিকেলে প্রবীন সাধু দরবেশ ফকির নহির শাহ্র হেম আশ্রমে এ সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধু, লালন ভক্ত ও লালন অনুসারীরা যোগ দেন এবং সেখানে তারা নিজ নিজ আসন পেতে বসেন।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানে ফকির লালন সাঁইজির গীতজ্ঞান সুধা পরিবেশন করেন বাউল-সাধুুবৃন্দ। প্রবীণ সাধু বীর মুক্তিযোদ্ধা দরবেশ ফকির নহির শাহ্র মতে দরবেশ লালন সাঁইজির পথ মত ছিল প্রকৃতিবাদী। প্রকৃতিবাদী হয়ে প্রকৃতি সাধনের মাধ্যমে নিজের আত্ম সংস্কার করে একজন সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার যে মাধ্যম তা হলো সাধুসঙ্গ। আর সাধুসঙ্গের মাধ্যমে লালন সাইজির আত্মদর্শন লাভ করা সম্ভব। ফকির রওশন সাধু’র মতে সত্যকে সাগর মনে করেন সাধুরা। আর এ সত্য সাগরে সবার পক্ষে সাতাঁর কাটা সম্ভব নয় বলে সাধুসঙ্গের আয়োজন করা হয়।

আবার সত্যিকারের আলোর মানুষ হিসেবে সাধুদের কাছ থেকে দেখে সার্থক ভেবে সহজ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধুসঙ্গে যোগ দিয়ে থাকেন অনেক দর্শনার্থী। তবে সাধুদের মতে আত্মশুদ্ধি, আত্মতত্ব রক্ষা ও সাদা মনের মানুষ হতে হলে গুরুভক্তির মাধ্যমে সেটা সম্ভব। আর এজন্য সাধুসঙ্গের প্রয়োজন।

শনিবার বিকেলে পূর্ন সেবা গ্রহনের মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠান শেষ হয়। সেই সাথে হেমাশ্রমে সাধুসঙ্গে যোগ দেওয়া সাধুগণ পরম প্রাপ্তি নিয়ে নিজ নিজ ধামে ফিরে গেলেও এখনও হেম আশ্রমে রয়ে গেছেন অনেক সাধু।

আরও পড়ুন: