বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া দুই চিকিৎসককে পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে অপারেশন টেবিলে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ও ঐ দুই চিকিৎসককে হেফাজতে নেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাসনিয়া আফরিন (৬) কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার বাঁ হাত ভেঙে যায়। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বিকেলে তাকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাতের অস্ত্রোপচারের জন্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী এবং অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ তাহেরুল আল আমীন উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর বাইরে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।
পরে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় হাসপাতালের ভেতরে অবস্থানরত দুই চিকিৎসককে সেসময় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের খালু আতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল অ্যানেসথেসিয়ার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। অন্যদিকে অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ তাহেরুল আল আমীন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, শিশুটির পূর্ববর্তী সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর হঠাৎ তার মৃত্যু হয়। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে বলে তিনি ধারণা দেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
কখনও অতিসংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া কিংবা নিম্নমানের ওষুধের কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল ইসলাম জানান, অজ্ঞান করার পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়। অ্যানেসথেসিয়া কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরাই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
এদিকে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এ ঘটনায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে হেফাজতে নেওয়া দুই চিকিৎসককে পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
