মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জহুরুল ইসলামের নানান অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) মিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম কে তদন্ত কমিটির প্রধান এবং সহকারী হিসেবে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুম মুনিরাও মাহমুদা চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহ আক্তার মামুন কে সরজমিন তদন্তের নির্দেশনা প্রদান করেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবি করিমুন্নেছা। কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের লিখিত ১৪ দফা অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে তদন্তে আসেন ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
জানা যায় গত ২২ অক্টোবর সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ কর্মচারীরা মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব,শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার, দূর্ণীতি দমন কমিশন কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়,মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও হালসা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের সভাপতি বরাবর অনুলিপি প্রদান করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে কলেজের আয়-ব্যায় এর হিসাব পরিচালনার জন্য দুইজন নির্বাচিত শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি হিসাব পরিচালিত হতো। বর্তমান অধ্যক্ষ দায়িত্বভার গ্রহণের পর নিজ নামে হিসাব খুলে কলেজের আয় ব্যায়ের হিসাব পরিচালনা করছেন।তিনি অত্র কলেজে ৯ জন কর্মচারীর নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ টাকার অনুদান নিয়ে নিজ ইচ্ছে মতো খরচ করে আসছেন।প্রতি বছর কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ফিস ও ভর্তি বাবদ ৮/১০ লক্ষ টাকা আয় হয় যেটার কোন হিসাবই তিনি কাউকে দেন না অধ্যক্ষ।ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি বাবদ সরকার যে বেতন প্রদান করেন তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে একাই ভোগ করেন।
জেলা পরিষদের বরাদ্দ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প,সংসদ সদস্যের বিভিন্ন বরাদ্দ, শেখরাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রকল্পের বরাদ্দ, টি আর বরাদ্দ সহ সর্বমোট এক কোটি সত্তর লক্ষ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন।কলেজ সীমানার মধ্যে একটি কেজি স্কুল ও একটি দোকান ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত টাকা নিজে আদায় করে কোন হিসাব ছাড়া নিজে ভোগ করেন।কলেজের একজন অনুগত শিক্ষককে দিয়ে প্রবেশ পত্র, প্রশংসা পত্র, উপবৃত্তি ফরম সার্টিফিকেট বাবদ প্রতিবছর প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা নিজে ভোগ করেন। কলেজের নিজস্ব জমিতে একটি বড় পুকুর আছে যা পূর্বে লিজ দেওয়া হতো বর্তমান সেটিতে অধ্যক্ষ নিজেই মৎস্য চাষ করেন।শিক্ষক কল্যাণ তহবিল হতে ৯২ হাজার টাকা ধার করে অদ্যবধি পরিশোধ করেন নাই।এছাড়াও চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জনের নিকট থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। সমস্ত অভিযোগ শুনানির পর তদন্ত দলের প্রধান সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম বলেন, আমরা সকল অভিযোগ শুনলাম, এখন সকল বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষে জানাবো, তারা সব কিছু বিশ্লেষণ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
