হরিপুরে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে দুই যুবককে তুলে নিয়ে বেধরকভাবে মারপিট করে ছুরিকাঘাত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

হরিপুরে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে দুই যুবককে তুলে নিয়ে বেধরকভাবে মারপিট করে ছুরিকাঘাত 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৮, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুরে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে জয় (২২) নামের এক যুবককে দোকান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধরকভাবে মারপিট করে এবং মার ঠেকাতে গিয়ে প্রান্ত (২৩) নামের দুই যুবককে বেধরকভাবে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) হরিপুর এলাকার ফারাজী পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত জয় হাটশ হরিপুর ফারাজী পাড়ার খোকনের ছেলে ও প্রান্ত একই এলাকার হাবিবুর রহমান হ্যাপির ছেলে। অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া হরিপুর এলাকার মৃত সোহরাব উদ্দিনের ছেলে মোঃ শামিম হোসেন (৪০),আরেক ছেলে মোঃ শাহিন (৪৩), মোঃ তুহিন (৪১), একই এলাকার মোঃ শাহিনের ছেলে প্রিন্স (২৩), মৃত আলাউদ্দিন ওরফে শুকরিয়ার ছেলে  মোঃ মনিরুল (৪৮) এই হামলা চালিয়েছে? আহত প্রান্তর বাবা হাবিবুর রহমান হ্যাপি জানান, গত ২৭ এ রোজা রাতে শামীম মাস্টার ইত্তেকাফে ছিল সাথে জয় ও ছিল। সেই সময় শামীম মাস্টারের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়।এরপর থেকে শামীম মাস্টার বিভিন্ন জনাকে বিভিন্নভাবে দোষারোপ করে ।এরপর তিনি থানায় একটি জিডি ও করে। জিডি করার পরে গত বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত নয়টার দিকে অভি স্টোর শামীম মাস্টারের আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে এই জয় বসেছিল। জয় কে শামীম মাস্টার, তুহিন, শামীম প্রিন্স সহ দোকানের মধ্যে নিয়ে যেয়ে মারধর করে। জয়ের বন্ধু হিসেবে আমার ছেলে প্রান্ত সহ প্রতিবেশী কয়েকজন ছিলো এরা প্রতিবাদ করলে আমার ছেলেকে ওরা ডেগার দিয়ে মারছে। আহত প্রান্ত জানান, শামিম শাহিন এবং উনার ভাতিজা প্রিন্স এরা মূলত জয়ের সাথে প্রথমে মারামারি করে ওই সময় আমি ঠেকাতে যাই ওদের হাতে হাসুয়া ছিল হাসুয়া দিয়ে আমার হাতে কোপ মারে।  এটা প্রথম থেকে শুরু হয় মসজিদের ফোন চুরি থেকে। শামীম স্যারের ফোন চুরি হয়ে যায় ওইটা জয়ের নামে দোষ দেয়। জয়কে কসম কাটাই কুরআন শরীফ ছোয়ায় জয় ওখানে স্বীকার করে যে আমি চুরি করিনি। ওখানেই ব্যাপারটা শেষ হয়ে যায়। তো আমরা রাত্রে বেলা আমাদের এলাকায় একটি দোকান আছে শামীম স্যারের বাড়ি পার হয়ে। আমরা ওখানেই বসি। তখন শামীম স্যার বলে তুই আমার ফোন চুরি করেছিস তোরা এখানে বসে অনৈতিক কর্ম করিস। তখন জয় বলে স্যার আমি তো আপনাকে এর আগেই বলেছি যে আমি আপনার ফোন নেইনি। ওখান থেকে শামীম  বিভিন্ন রকম দোষ দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে জয় বলে আমি ফোন নেইনি আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন তাহলে করেন। তখন হঠাৎ করে শামীম তার বড় ভাই উনার ওয়াইফ এবং ভাইস্তা মারধর শুরু করে। তখন আমি ওই দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম মারামারি ঠেকাতে চেষ্টা করি। একপর্যায়ে শামীম ও তার ভাই ভাস্তেরা জয়কে ধরে শামীমের বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেয়ে মারধর করে আমি ওখানে গেলেই আমার হাতে স্টেপ করে। হরিপুর ফারাজি পাড়ার দোকানদার অভির সাথে কথা হলে তিনি জানান, জয় আমার দোকানেও বসেছিলো। হঠাৎ করে শামীম ও তার ভাই ভাতিজা এসে জয়কে ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর শুরু করে। অনেক মারধর করে জয় এবং প্রান্ত কে। পরেএ স্থানীয় লোকজন এসে দুইজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিপুর বাজারে নিয়ে যায় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আহত প্রান্তর মা মোছাঃ ইনছানা খাতুন কাকলী  বাদী হয়ে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ  সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশকে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।