বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গাড়িচালক শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি পৌরসভার সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তাকে কুমারখালী থেকে কুষ্টিয়া পৌরসভায় বদলির চেষ্টার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে শহিদুল ইসলাম (৫৭) মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এতে সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয় এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে বকেয়া বেতনের দাবিতে পৌরসভার গাড়িচালক শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলামের কক্ষ বন্ধ করতে গেলে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অন্য কর্মকর্তারা দু’জনকে আলাদা কক্ষে রাখেন। কিছু সময় পর শহিদুল ইসলামকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া থাকায় তা চাইতে গেলে ফিরোজুল ইসলাম তাকে মারধর করেন এবং একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এর পরই তার মৃত্যু ঘটে।
এদিকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মামলার আসামি ফিরোজুল ইসলাম দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং কুষ্টিয়া পৌরসভায় যোগদানের জন্য তদবির চালাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, অতীতেও দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়া পৌরসভার কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এমন বিতর্কিত ব্যক্তির যোগদান প্রশাসনিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
