কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষক রিয়াজ উদ্দিনকে (৪৭) কুপিয়ে হত্যা ঘটনার চার দিন হল। তবুও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তবে পুলিশ বলছে থানায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ বা এজাহার জমা পড়েনি।
নিহত রিয়াজ উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শানপুকুরিয়া গ্রামে মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে ছিলেন। তাকে গত শনিবার দুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। পুলিশ ও স্বজন সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৪ শতাংশ পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের শানপুকুরিয়া গ্রামের মৃত ইদবার শেখের ছেলে হারুন শেখ (৫০), মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. হোসেন আলী শেখের (৪৫) সঙ্গে মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল লতিফ, মো. কাওছার ও রিয়াজ উদ্দিনের বিরোধ চলছিল। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই- চাচা ও ভাতিজা। গত শনিবার দুপুরে উক্ত বিবাদপূর্ণ জমির গাছ থেকে কাঁঠাল কাটতে গিয়েছিল চাচাতো ভাতিজা হোসেন আলীর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪৫)।
সেসময় আঃ লতিফ কাঁঠাল কাটতে নিষেধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়। একপর্যায়ে হোসেন আলীর ছেলে মোঃ সুমন (২৫) রিয়াজের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এবিষয়ে গত সোমবার সন্ধায় কুমারখালী থানামোড়ে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায় নিহতের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কাওছার আলী (৭২) ও তাঁদের স্বজনদের। এসময় কাওছাল আলী সমকালকে বলেন, শোকে ভাইয়ের স্ত্রী অসুস্থ। সন্তানরাও নাবালক। সেজন্য আমি বাদী হয়ে গত রোববার রাতে ২২ জনকে আসামি করে থানায় এজাহার জমা দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখনও মামলা এন্ট্রি করেনি। বিভিন্ন জনকে ধরনা দিয়েও মামলা হচ্ছেনা।
আমি ভাই হত্যার সঠিক বিচার চাই। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ^স্ত সুত্রে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িত নন এমন ব্যক্তিদের নাম দিয়ে এজাহার জমা দেওয়ায় মামলা রুজু হতে বিলম্ব হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম। তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের হাতে ওই কৃষক নিহত হয়েছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা এজাহার জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
