বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া এবং কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষায় বাস্তবায়নাধীন স্থায়ীবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নিম্নমানের পাথর ও বালি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরকারি কারিগরি নির্দেশনার পরিপন্থী। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির প্যাকেজ নং পি-১৯-এর আওতায় নির্মিত সি.সি ব্লকের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস আমিন এন্ড কোং। অভিযোগ রয়েছে, এই প্যাকেজে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সি.সি ব্লকের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ও স্পেসিফিকেশন মানা হচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্লক নির্মাণে ব্যবহৃত পাথরের আকার ছোটবড় ও ও ‘বেবি স্টোন। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বড় (ওভারসাইজ) ও ছোট (আন্ডার সাইজ) সাইজের পাথর একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এতে কংক্রিটের ভেতরে যথাযথ বন্ধন সৃষ্টি হচ্ছে না, যা বাঁধের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সরকারি নির্মাণ মানদণ্ড অনুযায়ী সি.সি ব্লক নির্মাণে পাথরের আকার ও মান সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি কারিগরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে। “সি.সি ব্লক নির্মাণে ব্যবহৃত কোর্স অ্যাগ্রিগেট অবশ্যই ভাঙা, শক্ত ও কোণাকৃত হতে হবে এবং এর নামমাত্র সাইজ ১৯ মিলিমিটার থেকে ২৫ মিলিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। নির্ধারিত সীমার বাইরে বড় বা ছোট সাইজের পাথর ব্যবহার করা যাবে না। একই নির্দেশনায় আরও উল্লেখ রয়েছে “ ওভারসাইজ বা আন্ডার সাইজ পাথর ব্যবহারের ফলে কংক্রিটের কম্প্যাকশন ব্যাহত হয় এবং কাঙ্ক্ষিত শক্তি অর্জন সম্ভব হয় না, যা নদীশাসন ও স্থায়ীবাঁধ নির্মাণে গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু পাথর নয়, বালির মান নিয়েও রয়েছে সরকারি নীতিমালা। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ব্যবহৃত বালি অবশ্যই পরিষ্কার ও ধুলামুক্ত হতে হবে। বালিতে কাদা ও মাটির পরিমাণ ৫ শতাংশের বেশি হলে তা বাতিলযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকায় ব্যবহৃত বালিতেও এসব মানদণ্ড মানা হচ্ছে না। ফলে পদ্মা নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের মুখে এই বাঁধ দীর্ঘদিন টিকবে কি না সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক এলাকাবাসী বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে তা একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়, অন্যদিকে ভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবন, বসতভিটা ও কৃষিজমির জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস আমিন এন্ড কোং-এর ম্যানেজার মাসুদ বলেন, অভিযোগ থাকলে আপনারা আসেন দেখে যান। আমাদের কাজের জায়গায় সবসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন থাকে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ রাশিদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য পৌঁছায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি কারিগরি নীতিমালা ও নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই।
