মিরপুরে সোহাগ ও বুলবুলের দাম ২০ লাখ
ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। এরইমধ্যে নানা আকৃতির বড় গরুগুলোর বাহারি নাম নজর কেড়েছে সবার। প্রতিবছর এসময় ওজন ও দামে আলোচনায় আসে বাহারি নামের গরু। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ার সোহাগ ও বুলবুলের নাম। কালোও সাদা রঙের ৩০ ও ২৬ মণ ওজনের ষাঁড় দুটির দাম ২০ লাখ টাকা চাচ্ছেন মালিক।

মিরপুরে সোহাগ ও বুলবুলের দাম ২০ লাখ
কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির জন্য বেশ আদর-যত্নে সোহাগ ও বুলবুলকে প্রস্তুত করেছেন মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের হাজরাহাটি গ্রামের খামারি জামাত মল্লিক। গড়ে প্রতিদিন ১৩০০ টাকার খাবার লাগে সোহাগ ও বুলবুলের।
গরুটিকে দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ভিড় করছে।
খামারি জামাত মল্লিক বলেন, ফ্রিজিয়ান শাহীওয়াল ক্রস জাতের ষাঁড় দুটি ২৮ মাস পূর্বে বাজার থেকে ১ লক্ষ টাকায় কিনেছি। আদর করে তার নাম রাখা হয়েছে সোহাগ ও বুলবুল। ৫ ফুট উচ্চতার ষাঁড়টি লম্বায় ৭.৫০ ফুট। সোহাগ ৩০ মণ অর্থাৎ ১২০০ কেজি ও বুলবুল ২৬ মণ অর্থাৎ ১০৪০ কেজি ওজনের ষাঁড় দুটিকে শুরু থেকেই ঘাস ও দানাদার খাবার খাওয়াচ্ছি। বেশির ভাগ সময় ঘাস খায়। আমি নিজে ঘাস চাষ করি। তাছাড়া গম, ছোলা ও ভুট্টার ভুসি সহ প্রতিদিন ১৩০০ টাকার দানাদার খাবার লাগে তাদের।
তিনি আরও বলেন, সোহাগ ও বুলবুলের আকর্ষণীয় নাম আর আকারে বড় হওয়ায় ষাঁড় দুটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষ আমার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। ষাঁড় দুটির খাবারের পেছনে প্রতিদিন যে টাকা খরচ হয়েছে, তাতে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারলে কিছুটা লাভ হবে। এরইমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী ষাঁড়টি কেনার জন্য যোগাযোগ করেছেন। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম বলেননি কেউ। ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে আমারও পরিশ্রম সার্থক হবে।
সকালে ঘাস খায়। দুপুরে ভুট্টার গুড়া, আটা, ধানের গুড়া, খৈল, গমের গুড়া, ছোলার গুড়া, গুড় , আপেল ও পানি দিয়ে খাবার খেতে দিই। বিকালে ও রাতে ঘাস, শোয়ার আগে পানি খেতে দিই। প্রতিদিন সকাল ও বিকেল গোসল করিয়ে দিই। বাড়ির পাশে লিবিয়া ঘাস চাষ করি। নিজেই কাটি ও খেতে দিই। সবসময় খেয়াল রাখতে হয়। মাঝেমধ্যে আমার স্ত্রী ও মেয়ে ষাঁড় দুটির যত্ন করে।

মিরপুরে সোহাগ ও বুলবুলের দাম ২০ লাখ
এক প্রশ্নের জবাবে জামাত আরও বলেন, ২০২১ সালের প্রথম দিকে ৫-৬ মাস বয়সী বাছুর দুটিকে ১ লক্ষ টাকায় কিনি। শখের বশে গরু পালন শুরু করেছি। তবে এখন আমার একটা খামার দেয়ার স্বপ্ন আছে। সোহাগ ও বুলবুলকে আমি অনেক ভালোবাসি। তাকে বিক্রি করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে, তবুও বিক্রি করতেই হবে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সিদ্দীকুর রহমান বলেন, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলায় ৭১ হাজার গরু, এক লাখ ছাগল সহ এক লাখ ৭৮ হাজার গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে। বিভিন্ন খামারে বড় বড় গরু আছে। কোরবানি উপলক্ষ্যে খামারিদের সঙ্গে আমরা সবসময় যোগাযোগ রাখছি। সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি।
